শিক্ষার্থীদের ‘দেশের শত্রু’ ভাবছে মোদি সরকার: সোনিয়া গান্ধী
- আপডেট ০৩:২৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 13

জবাবদিহি চাওয়া শিক্ষার্থীদের মোদি সরকার ‘দেশের শত্রু’ হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। সেইসঙ্গে বর্তমান ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ বলেও জানান তিনি।
সোনিয়া গান্ধী বলেন, মোদি সরকার আলোচনার বদলে বারবার বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেয়। কৃষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনকারী সব ক্ষেত্রেই একই চিত্র দেখা গেছে।’
‘তবে এখন সরকার আরো এক ধাপ নিচে নেমেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও দেশ গড়ার কারিগরদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর বদলে তাদের ওপর রাষ্ট্রের দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এই আচরণ ক্ষমার অযোগ্য, আর মানুষও এটি ভুলবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং সরকারের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার মনোভাবই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মূল কারণ। শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ স্বাভাবিক, কারণ তারা একটি অনিশ্চিত ও হতাশাজনক শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি। তাদের উদ্বেগ ও দাবি শোনার পরিবর্তে সরকার দমনমূলক আচরণ করছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।’
এদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শুক্রবার আরো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিন চলমান বিক্ষোভ ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় বক্তব্য। এর আগে এক বার্তায় তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন।
গভীর রাতে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি ভালোভাবেই জানি যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো ছোটখাটো বিষয় নয়। এতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা চরম মানসিক কষ্টে পড়েন। এ কারণে এসব ঘটনার পর গত আড়াই মাসে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে কারাগারে।’
মোদি আরো বলেন, নিরলসভাবে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতোমধ্যে তার কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এ খসড়ায় দ্রুত বিচার আদালত গঠনসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আজ শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে খসড়াটি নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের পরামর্শ যুক্ত করে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বিলটি পার্লামেন্টে পাস করার চেষ্টা করা হবে।
সূত্র: দ্য হিন্দু




















