ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় তানজিলা হত্যার বিচার দাবিতে আজিজুল হক কলেজে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

বগুড়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট ০৪:০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 29

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1,"adjust":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

 

বগুড়ার কলেজ শিক্ষার্থী তানজিলা ইয়াসমিন দীপার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ঘটনার পর পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের অভিযোগে মানববন্ধন করা হয়েছে। অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চান বিক্ষুব্ধরা।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে আত্মহত্যা মনে হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ক্লুলেস ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যা মামলার আসামি আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তার করা যায়নি।

​সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবিতে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করা হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রফেসর আনোয়ারুল হক চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ, সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।

সরকারি আজিজুল হক কলেজ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নিহত শিক্ষার্থীর ছবির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সাত বছর বয়সী শিশু। মায়ের হত্যার বিচার চায় একমাত্র কন্যা আনিশা তাসনীম অরিণ। এতিম শিশুটির আর্তনাদ দেখে আবেগাপ্লুত পরিবেশে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, নিহত শিক্ষার্থী হত্যা মামলার প্রধান আসামি এখনো অধরা। ঘটনার নেপথ্যের কারণ আজও অজানা। ধোঁয়াশায় না রেখে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এটি পরিকল্পিত নির্মম হত্যাকান্ড বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

নিহত শিক্ষার্থীর বড় বোন সাবিনা ইসলাম বলেন, তানজিলার সাথে কোরবানির ঈদে সর্বশেষ কথা হয়। বলেছিল রংপুরে চাকরির পাশাপাশি দ্বিতীয় বিয়ে করে মালগ্রামে বসবাস করছে। ভাড়া বাসায় তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। হাতের রগ কাটা, গলার রশি এবং ঘরে রক্তাক্ত পরিবেশ দেখে সন্দেহ হয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে নিহত শিক্ষার্থীর মা মাহফুজা বেগম, বাবা খয়বর আলী, সহপাঠী সাব্বির সাদিক, কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে নিহত শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নীরবতা পালন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে শহরের মালগ্রাম কলেজপাড়া মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তানজিলা ইয়াসমিন দীপা (২৬) নারুলী আনন্দপাড়ার খয়বর প্রামানিকের কন্যা। সে সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্ব ২০২২-২৩ শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে তানজিলা ইয়াসমিন দীপার প্রথম বিয়ে হয়। সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত বছর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের হলে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিল। লাশ উদ্ধারের পর দ্বিতীয় স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলার বাদী নিহতের বোন সাবিনা ইসলাম অভিযোগ করেন, পরকীয়া ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম স্বামীর সংসার ভেঙেছে অভিযুক্ত শেখ আবীদ উল সানি। পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। নিহতের হাঁটু মেঝের সঙ্গে লাগানো ছিল এবং বাম হাতের কবজির ওপর রগ কাটা ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, রক্তমাখা পরিবেশ দেখে ঘটনাটি হত্যাকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে আছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে।

ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় তানজিলা হত্যার বিচার দাবিতে আজিজুল হক কলেজে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট ০৪:০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

বগুড়ার কলেজ শিক্ষার্থী তানজিলা ইয়াসমিন দীপার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার ঘটনার পর পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের অভিযোগে মানববন্ধন করা হয়েছে। অভিযুক্ত দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চান বিক্ষুব্ধরা।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে আত্মহত্যা মনে হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ক্লুলেস ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যা মামলার আসামি আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তার করা যায়নি।

​সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবিতে সরকারি আজিজুল হক কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করা হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রফেসর আনোয়ারুল হক চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক আবু সাঈদ, সহযোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম।

সরকারি আজিজুল হক কলেজ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে নিহত শিক্ষার্থীর ছবির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সাত বছর বয়সী শিশু। মায়ের হত্যার বিচার চায় একমাত্র কন্যা আনিশা তাসনীম অরিণ। এতিম শিশুটির আর্তনাদ দেখে আবেগাপ্লুত পরিবেশে পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, নিহত শিক্ষার্থী হত্যা মামলার প্রধান আসামি এখনো অধরা। ঘটনার নেপথ্যের কারণ আজও অজানা। ধোঁয়াশায় না রেখে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। জড়িত কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এটি পরিকল্পিত নির্মম হত্যাকান্ড বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

নিহত শিক্ষার্থীর বড় বোন সাবিনা ইসলাম বলেন, তানজিলার সাথে কোরবানির ঈদে সর্বশেষ কথা হয়। বলেছিল রংপুরে চাকরির পাশাপাশি দ্বিতীয় বিয়ে করে মালগ্রামে বসবাস করছে। ভাড়া বাসায় তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। হাতের রগ কাটা, গলার রশি এবং ঘরে রক্তাক্ত পরিবেশ দেখে সন্দেহ হয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে নিহত শিক্ষার্থীর মা মাহফুজা বেগম, বাবা খয়বর আলী, সহপাঠী সাব্বির সাদিক, কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে নিহত শিক্ষার্থীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে নীরবতা পালন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে শহরের মালগ্রাম কলেজপাড়া মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তানজিলা ইয়াসমিন দীপা (২৬) নারুলী আনন্দপাড়ার খয়বর প্রামানিকের কন্যা। সে সরকারি আজিজুল হক কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্স শেষ পর্ব ২০২২-২৩ শিক্ষার্থী ছিল।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে তানজিলা ইয়াসমিন দীপার প্রথম বিয়ে হয়। সংসারে তার সাত বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গত বছর প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের হলে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিল। লাশ উদ্ধারের পর দ্বিতীয় স্বামীসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলার বাদী নিহতের বোন সাবিনা ইসলাম অভিযোগ করেন, পরকীয়া ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম স্বামীর সংসার ভেঙেছে অভিযুক্ত শেখ আবীদ উল সানি। পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। নিহতের হাঁটু মেঝের সঙ্গে লাগানো ছিল এবং বাম হাতের কবজির ওপর রগ কাটা ছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, রক্তমাখা পরিবেশ দেখে ঘটনাটি হত্যাকান্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে আছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উন্মোচনে তদন্ত চলছে।