শিরোনামঃ
বগুড়ায় ডিবি হাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
- আপডেট ০৬:৫১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 17
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাজতখানায় হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করার পর আদালতে হাজির করার আগেই তিনি হাজতখানার বাথরুমে গলায় ফাঁস দেন। ঘটনাটি ঘিরে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানার বাথরুমে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে নাশতা শেষে হাজতখানায় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে আসাদ বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় বের না হওয়ায় দায়িত্বরত সদস্যরা বাথরুমে গিয়ে তাকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ক্যাম্পাস) নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে আসাদকে হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি চিকিৎসা ও অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া কৈখালী এলাকার একটি বিল থেকে অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে নিহতের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে শনিবার বগুড়া রেলস্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
ডিবির ওসি ইকবাল বাহার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে যাত্রী সেজে অটোরিকশা ভাড়া করে চালককে সারিয়াকান্দি এলাকায় শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিলে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে নওগাঁর দিকে পালিয়ে যায়। সেখানে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে অটোরিকশাটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁয় অভিযান চালানো হলেও অন্য দুই অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
নিহত আসাদের বাবা মতি মুন্সি জানান, তার ছেলে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর মাদকাসক্ত হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। ডিবি হেফাজতে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।
বগুড়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ডিবি হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যাগ




















