শিরোনামঃ
বগুড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ মামলা, জমিতে গ্রামবাসীদের ধান রোপণ
স্টাফ রিপোর্টার
- আপডেট ০২:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / 38
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
বগুড়ার নন্দীগ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পীরপাল মাঠের জমির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে জমিটির স্বত্ব ও দখল সুরক্ষায় শত শত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে একযোগে ধানের চারা রোপণ করেছেন। গত রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের দারিয়াপুর গ্রামের ঐতিহাসিক পীরপাল মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়,জমিদার আমলে তৎকালীন জমিদার চন্দ্রকিশোর মুন্সি স্থানীয় মুসলিম প্রজাবর্গের কল্যাণে প্রায় ৪ একর ৩৬ শতক কৃষিজমি দান করেন, যা ‘পীরপাল মাঠ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই জমির পত্তনি থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। তৎকালীন প্রতিনিধি মোজাহার আলী শেখ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মারা গেলে, ২০১৯ সালে তাঁর ছেলে হাটকড়ই (কালিবাড়ী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস. এম. মামুন আলম জমিটির পরিচালনার দায়িত্ব নেন।
তবে পীরপালের জমির আয় ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (নন্দীগ্রাম আমলী) আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোকদ্দমা নম্বর- ১৪৪ সি/২০২৬ (নন্দীগ্রাম)। প্রজাবর্গের পক্ষে বর্তমান সহ-সভাপতি মো. সেলিম রেজা বাদী হয়ে স্কুল শিক্ষক এস. এম. মামুন আলম ও তাঁর সহযোগী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, পীরপাল মাঠের জমির পত্তনী বাবদ প্রাপ্ত অর্থের সঠিক হিসাব না দিয়ে আসামি ২০২৪ সালের ৬৫ হাজার ২০ টাকা, ২০২৫ সালের ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭ ৫০ টাকা এবং ২০২৬ সালের ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩১০ টাকাসহ সর্বমোট ৫ লাখ ৫ হাজার ৮০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার বিবরণীতে আরও বলা হয়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গ্রামবাসী ওই জমির দায়িত্ব পুনরুদ্ধার করেন। পরবর্তীতে পূর্ববর্তী সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও মুনাফার অর্থ ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ জমির সঙ্গে এলাকার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের স্বার্থ জড়িত থাকায় বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক এস. এম. মামুন আলম। তিনি বলেন, নালিশী সম্পত্তিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বাদীর স্বত্ব-দখল বজায় রাখার স্বার্থে জজ আদালত (সিভিল, নন্দীগ্রাম) গত ১১ই মে ২০২৬ তারিখে এক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন এবং তা কার্যকর করে প্রতিবেদন দিতে নন্দীগ্রাম থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। কিন্তু গ্রামবাসী আদালতের সেই আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক জমিতে ধান রোপণ করেছে।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতি বছরের জমি পত্তনির হিসাব মিটিং ডেকে গ্রামের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছি। রেজুলেশন বইয়ে গ্রামবাসীর স্বাক্ষরও রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের জমি পত্তনির ২ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা বিজ্ঞ আদালতের বিচারকের নির্দেশেই আমার জিম্মায় রাখা হয়েছে। সুতরাং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কাউকে হুমকি দিইনি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ট্যাগ






















