শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’ দিয়ে নিজের রেকর্ড ভাঙতে পারবে বিজয়?
- আপডেট ০৩:৩০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / 13

তামিল সিনেমার ‘থালাপতি’ খ্যাত অভিনেতা ও বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের অভিনয় ক্যারিয়ারের শেষ এবং ৬৯তম সিনেমা ‘জন নায়গন’ আগামী ২৩ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই বিদায়ী সিনেমাটিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সিনেমাপাড়ায় এখন তুমুল উন্মাদনা।
তবে বক্স অফিসের আসল প্রশ্ন হলো, সিনেমাটি কি বিজয়ের ক্যারিয়ারের আগের সব ব্লকবাস্টার রেকর্ড ভেঙে চুরমার করতে পারবে? বিজয়ের সামনে এখন দুটি বড় মাইলফলক রয়েছে—প্রথমটি হলো তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমা ‘লিও’ (৬০৬ কোটি রুপি) এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘দ্য গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ বা ‘গোট’ (৪৫৮ কোটি রুপি)। রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে অভিনয়কে বিদায় জানানোর এই লগ্নে ‘জন নায়গন’ বিজয়ের ক্যারিয়ারের সেরা বিদায়ী উপহার হতে পারে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।
বিজয় বরাবরই বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ভারতের বাইরে ওভারসিজ বা আন্তর্জাতিক বাজারে তার বিশাল ভক্তকুলের কল্যাণে বিপুল অর্থ আয় করে থাকেন। ‘লিও’ সিনেমার ২০৪ কোটি রুপি এবং ‘গোট’ সিনেমার ১৬৫ কোটি রুপির বিদেশের বাজারই মূলত তাদের বিপুল আয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল। তবে ‘জন নায়গন’ মুক্তির আগেই এক নজিরবিহীন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্য ও অভিনেতা হিসেবে শেষ সিনেমা হওয়ার আবেগ কাজ করায় বিশ্বব্যাপী অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ধুম পড়েছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, সিনেমাটির মুক্তির আগেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫ কোটি রুপির অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি রুপির বেশি এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এবং ভারতের বাজার থেকে এসেছে প্রায় ৭ কোটি রুপি। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মতো বিজয়ের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে টিকিট ছাড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
কাগজে-কলমে ‘জন নায়গন’ সিনেমার রেকর্ড ভাঙার বেশ কিছু বড় সুবিধা রয়েছে। এটি বিজয়ের প্রধান অভিনেতা হিসেবে শেষ সিনেমা হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে একধরনের আবেগঘন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে এটি তামিল, তেলেগু ও হিন্দি ভাষায় একযোগে মুক্তি পাচ্ছে এবং এর কাছাকাছি সময়ে অন্য কোনো বড় সিনেমা মুক্তি না থাকায় এটি বক্স অফিসে একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে ‘লিও’ বা ‘গোট’-এর মোট আয়কে ছাড়িয়ে যেতে হলে কেবল রেকর্ড অগ্রিম বুকিংই যথেষ্ট নয়, সিনেমাটিকে মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তের পরেও টিকিটের চড়া চাহিদা ধরে রাখতে হবে এবং দর্শকদের ইতিবাচক সাড়ার পাশাপাশি বারবার প্রেক্ষাগৃহে আসার জোয়ার তৈরি করতে হবে।
আগামী ২৩ জুলাই মেগা মুক্তির পরেই স্পষ্ট হবে বিজয় তার নিজের গড়া রেকর্ডের বই নতুন করে লিখতে পারছেন কি না।
সূত্র: এনডিটিভি
























