নামের আগে ডাক্তার পদবি,ধরেও ছেড়ে দিল প্রশাসন
- আপডেট ০৯:১২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 32

দুই ভাই নিজেদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করছিল। বগুড়া শহরের একটি মহল্লার ফার্মেসিতে চেম্বার খুলে দিতেন অপচিকিৎসা।
হাতেনাতে ধরা পড়ে অপরাধ স্বীকার করলেও দুই ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে দফারফা করার অভিযোগ উঠেছে। তাদেরকে সতর্ক করে অপচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধসহ শর্তসাপেক্ষে অর্থদন্ড করা হয় বলে জানিয়েছে জেলার জাতীয় ভোক্তা অধিকার।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা এগারোটার দিকে শহরের জহুরুল নগরের মদিনা মসজিদ সংলগ্ন শেরে বাংলা নগর এলাকার চৌধুরী ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান। সহযোগিতা করে র্যাব-১২ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা।
জানা গেছে, দু’ঘন্টা তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করা হয়। ফার্মেসিতে ভুয়া ডাক্তারের চেম্বার খুলে অপচিকিৎসা দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। দুই ভাই মহিদুর রহমান চৌধুরী রুমন ও মতিউর রহমান চৌধুরী রুম্মান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করছেন। তারা শুধুমাত্র ডিএমএফ কোর্স সম্পন্ন করেও স্থানীয়দের কাছে ডাক্তার হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ফলে সাধারণ রোগীরা বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন এবং প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া ডাক্তারের চেম্বারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার। হাতেনাতে আটকের পর অপরাধ স্বীকার করেছে কথিত ডাক্তার দুই ভাই। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়াই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে চৌধুরী ফার্মেসিকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। নামের আগে ডাক্তার পরিচয় দেওয়া দুই ভাই জরিমানা দিয়ে রেহাই পেলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহল্লার বাসিন্দারা। অনেকের মন্তব্য, ভুয়া ডাক্তার ধরে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা লোক দেখানো অভিযান। তারা আবারও অপচিকিৎসা দেওয়ার সাহস পাবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কথিত ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দুই ভাই অপরাধ স্বীকার করায় তাদের বাবার উপস্থিতিতে জরিমানা আদায় করেছি। ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের অপরাধে জড়াবেন না, বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে।




















