মালদ্বীপে আটক বাংলাদেশিদের পাশে হাইকমিশনার
- আপডেট ০৮:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 37

মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে সেখানে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দল কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন সমস্যা, আইনগত প্রক্রিয়া, স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বন্দিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা সেগুলো মনোযোগসহকারে শোনেন।
এ সময় কারাগারে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা, আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্যের মান, স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাপ্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি স্থানান্তর চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ চুক্তি কার্যকর হলে মানবিক বিবেচনায় সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বন্দিদের নিজ দেশে স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে তারা পরিবারের কাছাকাছি থেকে সাজা ভোগের পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগও পেতে পারেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালদ্বীপে বসবাসরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের কল্যাণ, মর্যাদা, আইনগত অধিকার ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের যেকোনো সমস্যা সমাধান, প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট মালদ্বীপের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের স্বার্থ রক্ষায় হাইকমিশন সর্বদা সচেষ্ট থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ ধরনের উদ্যোগকে মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও আটক বা সংকটে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।


























