ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিখোঁজের ২৫ বছর পর মিলল বাক-প্রতিবন্ধী রুবির মরদেহ, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 32

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা বাক-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম (ওহেদা বেগম)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) বগুড়া ৭ আসনের “বগুড়া মূক-বধির সংঘ”-এর উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা নিহত রুবির হত্যাকারী কুলাঙ্গার ও অমানুষদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) দাবি জানান।
​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ২০০১-২০০২ সালের দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ধোন শাতঘটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রুবি বেগম। দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবার তার খোঁজার আশা ছেড়ে দেয়।
​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) একটি ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা রুবিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর রুবি বেগম নরসিংদী জেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি ‘রুবি বেগম’ নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ওহেদা বেগম।
​পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে যখন রুবির সন্ধান পাওয়া গেল, তখন জানা যায় সামান্য কিছু টাকার লোভের কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রুবির ১টি বড় ভাই ও ২০ জন সদস্যের একটি যৌথ পরিবার ছিল, যার মধ্যে ১৮ জনই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে রুবির মতো তার পরিবারের আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
​মানববন্ধনে বক্তারা ও “বগুড়া মূক-বধির সংঘ”-এর নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেন। তারা বলেন,
​”হতভাগিনী মা রুবি বেগম আপনার বাড়ি ও এলাকার মেয়ে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সন্তান। তিনি একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ ছিলেন। যারা এমন একজন অসহায় মানুষের ওপর এই নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের যেন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।”
​নরসিংদীর মেথিকান্দা রেল স্টেশন এলাকায় এই বাক-প্রতিবন্ধী নারীর ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া মূক বধির সংঘের সভাপতি আইনজীবী রায়হান আহম্মেদ রানা, কোষাধ্যক্ষ ইমামুল হাসান,নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

নিখোঁজের ২৫ বছর পর মিলল বাক-প্রতিবন্ধী রুবির মরদেহ, হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন

আপডেট ০১:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা বাক-প্রতিবন্ধী রুবি বেগম (ওহেদা বেগম)-এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (১৫ জুলাই) বগুড়া ৭ আসনের “বগুড়া মূক-বধির সংঘ”-এর উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা নিহত রুবির হত্যাকারী কুলাঙ্গার ও অমানুষদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মৃত্যুদণ্ডের (ফাঁসি) দাবি জানান।
​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক ২০০১-২০০২ সালের দিকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ধোন শাতঘটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন রুবি বেগম। দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পরিবার তার খোঁজার আশা ছেড়ে দেয়।
​সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) একটি ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা রুবিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পর রুবি বেগম নরসিংদী জেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে তিনি ‘রুবি বেগম’ নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ওহেদা বেগম।
​পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ ২৪-২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে যখন রুবির সন্ধান পাওয়া গেল, তখন জানা যায় সামান্য কিছু টাকার লোভের কারণে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। রুবির ১টি বড় ভাই ও ২০ জন সদস্যের একটি যৌথ পরিবার ছিল, যার মধ্যে ১৮ জনই ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে রুবির মতো তার পরিবারের আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
​মানববন্ধনে বক্তারা ও “বগুড়া মূক-বধির সংঘ”-এর নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার দাবি করেন। তারা বলেন,
​”হতভাগিনী মা রুবি বেগম আপনার বাড়ি ও এলাকার মেয়ে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সন্তান। তিনি একজন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষ ছিলেন। যারা এমন একজন অসহায় মানুষের ওপর এই নির্মম অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের যেন কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।”
​নরসিংদীর মেথিকান্দা রেল স্টেশন এলাকায় এই বাক-প্রতিবন্ধী নারীর ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া মূক বধির সংঘের সভাপতি আইনজীবী রায়হান আহম্মেদ রানা, কোষাধ্যক্ষ ইমামুল হাসান,নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।