০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাল্টাবে রাজনৈতিক সমীকরণ 

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৭:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ১১৩ Time View
স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে বগুড়ার নন্দীগ্রামে আগাম সমর্থন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে গ্রামগঞ্জে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন বিএনপির ডজনখানেক নেতা। প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে আগাম প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকছে না দলীয় প্রতীক। এই সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দেওয়া বক্তব্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ অবস্থায় তৃণমূলে পাল্টাতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির হাফ ডজন নেতাকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের ভেতর বাইরে শুরু হয়েছে প্রবল কৌতুহল। আলোচনায় আছেন সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা, নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান খান শামীম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি একে আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান বিপ্লব রহিম, যুবদল নেতা ও সুনামধন্য ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এরমধ্যে বিএনপি নেতা মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা দীর্ঘ সময় নির্যাতিত। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলে অন্তত দুই ডজন গায়েবি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত একক আলোচনায় আছেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল। তিনি বিএনপির বিগত দিনের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে যুবলীগের হামলাসহ অমানবিক নির্যাতনে চোখ হারিয়েও যুবদল ছাড়েননি রুবেল। দেড় ডজন গায়েবি মামলায় দফায় দফায় কারাবন্দি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘরছাড়া থাকতেন।
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম সুমন। তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অসহায় পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেওয়াসহ প্রতিটি মহল্লার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্মী সমর্থকরা। মেয়র পদে আরও আলোচনা আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সুশান্ত কুমার শান্ত, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল।
দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, মাঠের পরিস্থিতি কেমন হবে, আন্দাজ করা যাচ্ছে না। বিএনপির কর্মী সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে গ্রামীণ জনপদ ও নেটি প্রচারণা বেশ তৎপর। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই তৃণমূল রাজনীতির নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে। দলীয় প্রতীক না থাকলে শঙ্কা বাড়াবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। সুযোগের অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগ নেতারা। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। এতে নির্বাচন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় পেরেক বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। দলটির আগাম মনোনীত তিনজন প্রার্থী গ্রামীণ জনপদে ছুটছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আগাম মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের সাবেক আমির নুরুল ইসলাম মন্ডল, ১নং বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রভাষক হোসাইন মোহাম্মদ মানিক এবং ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপিকে ঠেকাতে পর্দার আড়ালে চলছে কৌশল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সমর্থন বাগিয়ে নিতে সমঝোতার পথে হাঁটছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের অনেক নেতাকর্মী ওয়ার্ড ইউনিটে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদস্যপদ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভোটাররা।
সম্প্রতি, সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করলে ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাসহ যে কেউ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগ করেন তবুও প্রার্থী হতে পারবেন, কারণ নির্বাচনটা নির্দলীয়।
ইসি সূত্র জানায়, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। আগস্টে তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তপশিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পাল্টাবে রাজনৈতিক সমীকরণ 

Update Time : ০৭:১৭:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে বগুড়ার নন্দীগ্রামে আগাম সমর্থন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে গ্রামগঞ্জে প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন বিএনপির ডজনখানেক নেতা। প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে আগাম প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকছে না দলীয় প্রতীক। এই সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দেওয়া বক্তব্য এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ অবস্থায় তৃণমূলে পাল্টাতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির হাফ ডজন নেতাকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের ভেতর বাইরে শুরু হয়েছে প্রবল কৌতুহল। আলোচনায় আছেন সংসদ নির্বাচনে একাধিকবার মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা, নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার, সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান খান শামীম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি একে আজাদ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আহসান বিপ্লব রহিম, যুবদল নেতা ও সুনামধন্য ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এরমধ্যে বিএনপি নেতা মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা দীর্ঘ সময় নির্যাতিত। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ শাসনামলে অন্তত দুই ডজন গায়েবি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত একক আলোচনায় আছেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফ রুবেল। তিনি বিএনপির বিগত দিনের আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে যুবলীগের হামলাসহ অমানবিক নির্যাতনে চোখ হারিয়েও যুবদল ছাড়েননি রুবেল। দেড় ডজন গায়েবি মামলায় দফায় দফায় কারাবন্দি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘরছাড়া থাকতেন।
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনার শীর্ষে আছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম সুমন। তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অসহায় পরিবারে আর্থিক সহায়তা দেওয়াসহ প্রতিটি মহল্লার জনগোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর প্রচারণা চালাচ্ছেন কর্মী সমর্থকরা। মেয়র পদে আরও আলোচনা আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. আলেকজান্ডার, সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সুশান্ত কুমার শান্ত, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল।
দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, মাঠের পরিস্থিতি কেমন হবে, আন্দাজ করা যাচ্ছে না। বিএনপির কর্মী সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে গ্রামীণ জনপদ ও নেটি প্রচারণা বেশ তৎপর। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই তৃণমূল রাজনীতির নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হচ্ছে। দলীয় প্রতীক না থাকলে শঙ্কা বাড়াবে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। সুযোগের অপেক্ষায় আছে আওয়ামী লীগ নেতারা। দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। এতে নির্বাচন উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় পেরেক বসাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। দলটির আগাম মনোনীত তিনজন প্রার্থী গ্রামীণ জনপদে ছুটছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আগাম মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের সাবেক আমির নুরুল ইসলাম মন্ডল, ১নং বুড়ইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রভাষক হোসাইন মোহাম্মদ মানিক এবং ৫নং ভাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপিকে ঠেকাতে পর্দার আড়ালে চলছে কৌশল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের সমর্থন বাগিয়ে নিতে সমঝোতার পথে হাঁটছেন স্থানীয় জামায়াতের নেতারা। যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের অনেক নেতাকর্মী ওয়ার্ড ইউনিটে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সদস্যপদ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে গ্রামীণ জনপদের ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভোটাররা।
সম্প্রতি, সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচন-সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করলে ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতাসহ যে কেউ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো রকম কোনো সমস্যা নেই। একজন ব্যক্তি যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগ করেন তবুও প্রার্থী হতে পারবেন, কারণ নির্বাচনটা নির্দলীয়।
ইসি সূত্র জানায়, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। আগস্টে তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তপশিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তপশিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।