০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি,ক্রেতা কমে বাজারে ধীরগতি

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৭৪ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1,"adjust":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত শহর বগুড়া। জীবিকার তাগিদে এখানে বসবাস করেন কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিনের বাজার খরচে যেখানে হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয়, সেই শহরের প্রধান ভরসা পাইকারি রাজা বাজার ও খুচরা ফতেহ আলী বাজার।
এই বাজারে অধিকাংশ মানুষ কেনাকাটা করে থাকে। দাম কম বা বেশি হলেও ভরসা এই বাজারগুলো। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায় সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে।
সবজির বাজারে আলু, সজনে ও লাউয়ের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও পটল,করলা ও বেগুনসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সাইদুল বলেন, পণ্য আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। আলু, পেঁয়াজ এর দাম কম। দেশি আলু ২৫ টাকা আর এরেস্টিক ১৫-২০ টাকা কেজি। কচুর লতি ১০০ টাকা, পটল ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা। সপ্তাহ ঘুরে দাম কিছুটা বেড়েছে।
একই কথা জানালেন বিক্রেতা আব্দুল মজিদ তার মতে, আমদানি কম ও সরবরাহের ঘাটতির কারণেই দাম বাড়ছে। জোয়ার নেই গাছে ফলন ও কম হচ্ছে এ জন্য অনেক কাঁচা সবজির দাম বেশি। বাজার করতে আসা ক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম ২০-৩০ টাকা বেশি। ভাড়া বৃদ্ধি আর সিন্ডিকেটই এর জন্য দায়ী।
বাজারের মূল্যতালিকা অনুযায়ী মুদি দোকানী বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। চিনিগুড়া চাল ১৩৫ টাকা কেজি, কাটারি ৭২ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
 নাজিরশাইল চাল ৭৬ টাকা কেজি, আটা প্রায় ৫৫ টাকা, ময়দা ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা এবং সরিষার তেল ২৫০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ১৭০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা ও লবণ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ ভালো থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয়। রুই, কাতলা, বোয়াল, সিলভার কার্প, মাগুর, শিং, টেংরা ও পাবদাসহ নানা প্রজাতির মাছ বাজারে পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।
মাছ বিক্রেতা মালেক বলেন, বিভিন্ন প্রকারের মাছ উঠেছে বাজারে। দাম ও মাছ ভেদে আলাদা। রুই মাছ ৩৬০-৩৭০ টাকা কেজি, কাতলা মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি, নুনা ৭০০-৮০০ টাকা কেজি ,পাবদা ৫০০ টাকা কেজি, শোল মাছ ৭০০-৮০০ টাকা কেজি ,বোয়াল ৯০০-৯৫০ টাকাকেজি , সিলভার কাপ ১৭০ -১৮০ টাকা কেজি, ব্লাডকাপ মাছ ৩০০-৩২০ টাকা কেজি, মাগুর ৬০০ – ৯০০ টাকা কেজি, শিং মাছ ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি,  চিংড়ি ছোট ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা করিমউদ্দীন বলেন, মাছ অনেক,কিন্তু সিলভার,পাঙ্গাস, মাছ ছাড়া অন্যগুলোর দাম আগের থেকে বেশি। ইলিশ বিক্রেতা হাসেম জানান, ইলিশের দাম বেশি, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কিনতে পারছেন না।
মুরগির বাজারেও একই অবস্থা। ব্রয়লার ১৮০ টাকা, সোনালী ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা এবং হাঁস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
সুমাইয়া বিবি বলেন,বাড়িতে মেহমান আসায় বাজার করতে আসছি এসে দেখি গত সপ্তাহে সোনালী মুরগির দাম কম ছিল, এখন বেড়ে গেছে। সোনালী মুরগি নিব দাম বেশি, ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মসলা বাজার ঘুরে দেখা যায় ইন্ডিয়ান থেকে যেসব মসলা আসে সেগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে তবে কাঠবাদাম ও কাজুবাদামে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে। কিসমিস, জিরা, কালো এলাচ ও সাদা এলাচের দাম গত সপ্তাহে ছিল যা সেটিই রয়েছে। ইরানি ও আফগানিস্তানী পণ্যর দাম বেড়েছে।
জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি, সাদা এলাচ ৪২০০ থেকে ৪৫০০ টাকা কেজি, কালো এলাচ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজি,দারচিনি ৪৮০ টাকা কেজি, লং ১৩০০ টাকা কেজি, গোল মরিচ ১১২০ টাকা কেজি। কাজু বাদাম ১৩৩০ টাকা, কাঠবাদাম ১৩৪০ টাকা কেজি যা আগে ছিল ১২৬০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যে চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ চান মিয়া বলেন, বেচাকেনা কমে গেছে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি,যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বগুড়া রাজা বাজারের ব্যবসায়ী পরিমল প্রসাদ রাজ জানান,সবজির আমদানি কম। আমরা পেঁয়াজ,আদা-রসুন সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতা কমে গেছে। ফলে বিক্রেতা ও ক্রেতা—দুই পক্ষই পড়েছেন চাপে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি,ক্রেতা কমে বাজারে ধীরগতি

Update Time : ০৬:১৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত শহর বগুড়া। জীবিকার তাগিদে এখানে বসবাস করেন কয়েক লাখ মানুষ। প্রতিদিনের বাজার খরচে যেখানে হাজার হাজার টাকা ব্যয় হয়, সেই শহরের প্রধান ভরসা পাইকারি রাজা বাজার ও খুচরা ফতেহ আলী বাজার।
এই বাজারে অধিকাংশ মানুষ কেনাকাটা করে থাকে। দাম কম বা বেশি হলেও ভরসা এই বাজারগুলো। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায় সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচাবাজারে ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে।
সবজির বাজারে আলু, সজনে ও লাউয়ের দাম কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও পটল,করলা ও বেগুনসহ বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সাইদুল বলেন, পণ্য আছে, কিন্তু ক্রেতা নেই। আলু, পেঁয়াজ এর দাম কম। দেশি আলু ২৫ টাকা আর এরেস্টিক ১৫-২০ টাকা কেজি। কচুর লতি ১০০ টাকা, পটল ৮০-১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা। সপ্তাহ ঘুরে দাম কিছুটা বেড়েছে।
একই কথা জানালেন বিক্রেতা আব্দুল মজিদ তার মতে, আমদানি কম ও সরবরাহের ঘাটতির কারণেই দাম বাড়ছে। জোয়ার নেই গাছে ফলন ও কম হচ্ছে এ জন্য অনেক কাঁচা সবজির দাম বেশি। বাজার করতে আসা ক্রেতা ফয়সাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম ২০-৩০ টাকা বেশি। ভাড়া বৃদ্ধি আর সিন্ডিকেটই এর জন্য দায়ী।
বাজারের মূল্যতালিকা অনুযায়ী মুদি দোকানী বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেশি। চিনিগুড়া চাল ১৩৫ টাকা কেজি, কাটারি ৭২ থেকে ৮০ টাকা কেজি।
 নাজিরশাইল চাল ৭৬ টাকা কেজি, আটা প্রায় ৫৫ টাকা, ময়দা ৬৫ টাকা, সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা এবং সরিষার তেল ২৫০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল ১৭০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা ও লবণ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ ভালো থাকলেও বিক্রি আশানুরূপ নয়। রুই, কাতলা, বোয়াল, সিলভার কার্প, মাগুর, শিং, টেংরা ও পাবদাসহ নানা প্রজাতির মাছ বাজারে পর্যাপ্ত রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম হওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।
মাছ বিক্রেতা মালেক বলেন, বিভিন্ন প্রকারের মাছ উঠেছে বাজারে। দাম ও মাছ ভেদে আলাদা। রুই মাছ ৩৬০-৩৭০ টাকা কেজি, কাতলা মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি, নুনা ৭০০-৮০০ টাকা কেজি ,পাবদা ৫০০ টাকা কেজি, শোল মাছ ৭০০-৮০০ টাকা কেজি ,বোয়াল ৯০০-৯৫০ টাকাকেজি , সিলভার কাপ ১৭০ -১৮০ টাকা কেজি, ব্লাডকাপ মাছ ৩০০-৩২০ টাকা কেজি, মাগুর ৬০০ – ৯০০ টাকা কেজি, শিং মাছ ৫৫০-৬০০ টাকা কেজি,  চিংড়ি ছোট ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা করিমউদ্দীন বলেন, মাছ অনেক,কিন্তু সিলভার,পাঙ্গাস, মাছ ছাড়া অন্যগুলোর দাম আগের থেকে বেশি। ইলিশ বিক্রেতা হাসেম জানান, ইলিশের দাম বেশি, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই কিনতে পারছেন না।
মুরগির বাজারেও একই অবস্থা। ব্রয়লার ১৮০ টাকা, সোনালী ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৬০০ টাকা এবং হাঁস ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
সুমাইয়া বিবি বলেন,বাড়িতে মেহমান আসায় বাজার করতে আসছি এসে দেখি গত সপ্তাহে সোনালী মুরগির দাম কম ছিল, এখন বেড়ে গেছে। সোনালী মুরগি নিব দাম বেশি, ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মসলা বাজার ঘুরে দেখা যায় ইন্ডিয়ান থেকে যেসব মসলা আসে সেগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে তবে কাঠবাদাম ও কাজুবাদামে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে। কিসমিস, জিরা, কালো এলাচ ও সাদা এলাচের দাম গত সপ্তাহে ছিল যা সেটিই রয়েছে। ইরানি ও আফগানিস্তানী পণ্যর দাম বেড়েছে।
জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি, সাদা এলাচ ৪২০০ থেকে ৪৫০০ টাকা কেজি, কালো এলাচ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা কেজি,দারচিনি ৪৮০ টাকা কেজি, লং ১৩০০ টাকা কেজি, গোল মরিচ ১১২০ টাকা কেজি। কাজু বাদাম ১৩৩০ টাকা, কাঠবাদাম ১৩৪০ টাকা কেজি যা আগে ছিল ১২৬০ টাকা কেজি।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা থাকলেও অন্যান্য নিত্যপণ্যে চাপ অনুভব করছেন ক্রেতারা।
বগুড়া ফতেহ আলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ চান মিয়া বলেন, বেচাকেনা কমে গেছে। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি,যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বগুড়া রাজা বাজারের ব্যবসায়ী পরিমল প্রসাদ রাজ জানান,সবজির আমদানি কম। আমরা পেঁয়াজ,আদা-রসুন সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতা কমে গেছে। ফলে বিক্রেতা ও ক্রেতা—দুই পক্ষই পড়েছেন চাপে।