ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
  • আপডেট ০২:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • / 13

 

চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধ ঘোষণার নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এই নোটিশ টাঙ্গানো হয়। দুটি পক্ষের মধ্যে মালিকানা বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে অভিমত দিয়েছেন। এতে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যিালয়ের গেটে টাঙ্গিয়ে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেন সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গা এর সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকমন্ডলি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্ভৃত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কার্যক্রম আজ ২৩.০৭.২৬ খ্রি. থেকে পরবর্তি নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ হিসেবে দাবিদার একটি পক্ষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ গেটের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালিন কোষাধ্যক্ষ আলিমউদ্দিন লস্কর।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন। তাদের যোগসাজসে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। যা কোনোক্রমেই ঠিক নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় যারা কুক্ষিগত করেছেন তারা আর্থিক তছরুপ করেছেন, অর্থ আত্মসাত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, কে বৈধ কে অবৈধ সেটি আমাদের জানার বিষয় নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা
হোক।

একই কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস হয় এবং ছাত্রছাত্রী বাড়তে থাকে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

ট্যাগ

Please Share This Post in Your Social Media

চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আপডেট ০২:১২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

 

চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বন্ধ ঘোষণার নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এই নোটিশ টাঙ্গানো হয়। দুটি পক্ষের মধ্যে মালিকানা বিরোধ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকে অভিমত দিয়েছেন। এতে, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যিালয়ের গেটে টাঙ্গিয়ে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেন সাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, চুয়াডাঙ্গা এর সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকমন্ডলি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড সংক্রান্ত বিষয়ে উদ্ভৃত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার কার্যক্রম আজ ২৩.০৭.২৬ খ্রি. থেকে পরবর্তি নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ হিসেবে দাবিদার একটি পক্ষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধ গেটের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। ওই সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালিন কোষাধ্যক্ষ আলিমউদ্দিন লস্কর।

তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন। তাদের যোগসাজসে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন। যা কোনোক্রমেই ঠিক নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় যারা কুক্ষিগত করেছেন তারা আর্থিক তছরুপ করেছেন, অর্থ আত্মসাত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে ক্লাস শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, কে বৈধ কে অবৈধ সেটি আমাদের জানার বিষয় নয়। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিয়ে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা
হোক।

একই কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক শিক্ষার্থী। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য ড. মোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তারপর থেকে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাস হয় এবং ছাত্রছাত্রী বাড়তে থাকে। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।