০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের জিএম এর অপসারণের দাবিতে  মানববন্ধন 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০২:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • / ১৩৪ Time View

 

অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. নুরুল হুদার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমিতির আওতাধীন উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, শাহজাদপুর ও খুকনী এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জিএম মো. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, গ্রাহকদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নষ্ট বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তন না করে গ্রাহকদের কাছ থেকে গড় বিল আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া একই সময় থেকে নতুন আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি, অফিসে পর্যাপ্ত মিটার মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘মিটার নেই’ অজুহাতে নতুন সংযোগপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ট্রান্সফরমার বিকল হলে তা পরিবর্তনে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া হচ্ছে। ফলে হাজারো গ্রাহক দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্ভোগে পড়ছেন। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অফিস প্রাঙ্গণের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরঘাট নির্মাণের সময় পূর্বনির্মিত প্যারেড গ্রাউন্ড ও পতাকাস্ট্যান্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও করেন তারা।

বক্তারা জানান, এর আগে গত ১১ জুন একই দাবিতে সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি জাতীয় টেলিভিশন, দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পুনরায় আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে জিএম মো. নুরুল হুদাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অভিযোগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নষ্ট মিটার দ্রুত পরিবর্তন, নতুন সংযোগ চালু এবং অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে গ্রাহক সোলাইমান, মোছা. ফুফিয়া খাতুন, ইলেকট্রিশিয়ান হান্নান, মোহাম্মদ মইনউদ্দিন, রিন্টু, আমজাদ হোসেন, রুহুল আমিন, মনসুরসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ভুক্তভোগী গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সিরাজগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের জিএম এর অপসারণের দাবিতে  মানববন্ধন 

Update Time : ০২:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

 

অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. নুরুল হুদার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা।

বুধবার (১ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমিতির আওতাধীন উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, শাহজাদপুর ও খুকনী এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহক, ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জিএম মো. নুরুল হুদার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা, গ্রাহকদের হয়রানি এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নষ্ট বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তন না করে গ্রাহকদের কাছ থেকে গড় বিল আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে তারা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এছাড়া একই সময় থেকে নতুন আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের দাবি, অফিসে পর্যাপ্ত মিটার মজুত থাকা সত্ত্বেও ‘মিটার নেই’ অজুহাতে নতুন সংযোগপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ট্রান্সফরমার বিকল হলে তা পরিবর্তনে ৭ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া হচ্ছে। ফলে হাজারো গ্রাহক দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্ভোগে পড়ছেন। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অফিস প্রাঙ্গণের মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মেরও অভিযোগ তোলা হয়। তাদের দাবি, প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরঘাট নির্মাণের সময় পূর্বনির্মিত প্যারেড গ্রাউন্ড ও পতাকাস্ট্যান্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হয়রানির অভিযোগও করেন তারা।

বক্তারা জানান, এর আগে গত ১১ জুন একই দাবিতে সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি জাতীয় টেলিভিশন, দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে পুনরায় আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে জিএম মো. নুরুল হুদাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অভিযোগের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, নষ্ট মিটার দ্রুত পরিবর্তন, নতুন সংযোগ চালু এবং অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে গ্রাহক সোলাইমান, মোছা. ফুফিয়া খাতুন, ইলেকট্রিশিয়ান হান্নান, মোহাম্মদ মইনউদ্দিন, রিন্টু, আমজাদ হোসেন, রুহুল আমিন, মনসুরসহ বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য ভুক্তভোগী গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।