০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সার মজুত রেখে অজুহাত,ফায়দা লুটছে সিন্ডিকেট বিপাকে কৃষক

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৩:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪৮৬ Time View
অন্তর্বর্তী সরকার আমলেও সিন্ডিকেটের কারসাজি থেকে মুক্ত নয় বগুড়ার সারের বাজার। প্রান্তিক কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন বাড়তি দামে কিনতে। মৌসুমের শুরুতেই এক শ্রেণির অসাধু ডিলার গুদামে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলা সহ  প্রায় সব উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আদমদীঘি উপজেলার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া ও পটাশ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বগুড়ার কৃষকদের অভিযোগ,প্রতিবছর মৌসুম শুরুর আগেই সংকটের গুজব ছড়িয়ে সার ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ফায়দা লুটে। নির্ধারিত দামের পরিবর্তে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। সরকার ঘোষিত দামে ইউরিয়া ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, এমওপি ২১ টাকা ও ডিএপি ২২ টাকা থাকলেও তা বাস্তবে মিলছে না। অথচ বগুড়া কৃষি বিভাগ বলছে, আমন মৌসুমের তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।
বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে জুলাই মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার ডিলারদের কাছে সরবরাহ করার পরও বর্তমানে বিভিন্ন গুদামে ছয় লাখ ৩০ হাজার ৬১৩ টন ইউরিয়া সার, দুই লাখ ১৭ হাজার টন টিএসপি, দুই লাখ ৭৩ হাজার টন ডিএপি এবং দুই লাখ ৮১ হাজার টন এমওপি মজুত রয়েছে। এই সার দিয়ে তিন মাসের সারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া ২৫ হাজার টন টিএসপি, এক লাখ ১০ হাজার টন এমওপি এবং এক লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি নতুন করে দেশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিএডিসি ও বিসিআইসি দুটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে সাত হাজার ১৫০ জন ডিলার রয়েছে। বিএডিসি অনুমোদিত পাঁচ হাজার ২২ জন এবং বিসিআইসির দুই হাজার ১২৮ জন। যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া। সম্প্রতি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা পরিবর্তন করেছে মন্ত্রণালয়। যারা অনিয়মে জড়িত এবং অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে, তাদের সবার ডিলার লাইসেন্স বাতিল করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আদমদীঘি উপজেলার মুরইল বাজারের রাফি ট্রেডার্স নামের একটি খুচরা সার বিক্রেতার গুদামে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৭০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত ডিলার আশরাফ হাজীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম অনন্যা। রাফি ট্রেডার্সের সেই গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, মুরইল বাজারের মেসার্স রাফি ট্রেডার্সের গুদামে সরকারি নিয়মবহিভুত ভাবে অতিরিক্ত সার মজুত ও সেখান থেকে পাচার করার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। ট্রাকে বোঝাই করা ২৪৫ বস্তা পটাশ পাওয়া গেছে। এরপর গুদামে মজুত রাখা অতিরিক্ত ৮২৫ বস্তা ইউরিয়া ও পটাশ জব্দ করা হয়। ট্রাক বোঝাই ২৪৫ বস্তা পটাশ প্রকাশ্যে নিলামে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৫ টাকায় বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। ৮২৫ বস্তা রাসায়নিক সারও নিলামে বিক্রি করা হবে।
জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম বলেন, কিছু কিছু ডিলার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সার সংগ্রহ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রয় করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি।
বগুড়া জেলার কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মো. ছামছুদ্দিন ফিরোজ বলেন, সার বিতরণে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সম্প্রতি গাবতলী, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কয়েকজন ডিলারকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সার মজুত রেখে অজুহাত,ফায়দা লুটছে সিন্ডিকেট বিপাকে কৃষক

Update Time : ০৩:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকার আমলেও সিন্ডিকেটের কারসাজি থেকে মুক্ত নয় বগুড়ার সারের বাজার। প্রান্তিক কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বাধ্য হচ্ছেন বাড়তি দামে কিনতে। মৌসুমের শুরুতেই এক শ্রেণির অসাধু ডিলার গুদামে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ফলে অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলা সহ  প্রায় সব উপজেলায় অবৈধভাবে সার মজুত করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আদমদীঘি উপজেলার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া ও পটাশ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বগুড়ার কৃষকদের অভিযোগ,প্রতিবছর মৌসুম শুরুর আগেই সংকটের গুজব ছড়িয়ে সার ডিলার ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ফায়দা লুটে। নির্ধারিত দামের পরিবর্তে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। সরকার ঘোষিত দামে ইউরিয়া ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, এমওপি ২১ টাকা ও ডিএপি ২২ টাকা থাকলেও তা বাস্তবে মিলছে না। অথচ বগুড়া কৃষি বিভাগ বলছে, আমন মৌসুমের তিন মাসের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে।
বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারা দেশে জুলাই মাসের চাহিদা অনুযায়ী সার ডিলারদের কাছে সরবরাহ করার পরও বর্তমানে বিভিন্ন গুদামে ছয় লাখ ৩০ হাজার ৬১৩ টন ইউরিয়া সার, দুই লাখ ১৭ হাজার টন টিএসপি, দুই লাখ ৭৩ হাজার টন ডিএপি এবং দুই লাখ ৮১ হাজার টন এমওপি মজুত রয়েছে। এই সার দিয়ে তিন মাসের সারের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া ২৫ হাজার টন টিএসপি, এক লাখ ১০ হাজার টন এমওপি এবং এক লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি নতুন করে দেশে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বিএডিসি ও বিসিআইসি দুটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমানে সাত হাজার ১৫০ জন ডিলার রয়েছে। বিএডিসি অনুমোদিত পাঁচ হাজার ২২ জন এবং বিসিআইসির দুই হাজার ১২৮ জন। যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া। সম্প্রতি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা পরিবর্তন করেছে মন্ত্রণালয়। যারা অনিয়মে জড়িত এবং অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে, তাদের সবার ডিলার লাইসেন্স বাতিল করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আদমদীঘি উপজেলার মুরইল বাজারের রাফি ট্রেডার্স নামের একটি খুচরা সার বিক্রেতার গুদামে অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৭০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত ডিলার আশরাফ হাজীর ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম অনন্যা। রাফি ট্রেডার্সের সেই গুদাম সিলগালা করা হয়েছে।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রবিউল ইসলাম জানান, মুরইল বাজারের মেসার্স রাফি ট্রেডার্সের গুদামে সরকারি নিয়মবহিভুত ভাবে অতিরিক্ত সার মজুত ও সেখান থেকে পাচার করার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। ট্রাকে বোঝাই করা ২৪৫ বস্তা পটাশ পাওয়া গেছে। এরপর গুদামে মজুত রাখা অতিরিক্ত ৮২৫ বস্তা ইউরিয়া ও পটাশ জব্দ করা হয়। ট্রাক বোঝাই ২৪৫ বস্তা পটাশ প্রকাশ্যে নিলামে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৫ টাকায় বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়। ৮২৫ বস্তা রাসায়নিক সারও নিলামে বিক্রি করা হবে।
জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এনাম বলেন, কিছু কিছু ডিলার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সার সংগ্রহ করে অতিরিক্ত দামে বিক্রয় করছে। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি।
বগুড়া জেলার কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মো. ছামছুদ্দিন ফিরোজ বলেন, সার বিতরণে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে জিরো টলারেন্সে আছি। সম্প্রতি গাবতলী, শিবগঞ্জ ও নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কয়েকজন ডিলারকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।