০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরল বগুড়ার ২৮ শ্রমিক 

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৬:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / ১৭২ Time View
জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়ে আটকপড়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিদশায় থাকা বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও আশেপাশের গ্রামের শ্রমিকরা বর্তমানে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এছাড়া প্রতিশ্রুতি পূরণের সফল প্রচেষ্টায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে তিনি ভারতের তামিলনাড়ুতে আটকাপড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গতকাল নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বেশকটি ছবিসহ স্ট্যাটাসে মোশারফ হোসেন এমপি এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে নন্দীগ্রামের ২৮জন শ্রমিক। তবে সামাজিক বিবেচনায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদীঘি চারমাথা বাজারে ভারত ফেরত শ্রমিকদের নিয়ে সময় কাটিয়েছেন সংসদ সদস্য। আপ্যায়ন, উন্মুক্ত আলোচনা ও তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিবসহ সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বন্দিদশা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শ্রমিকদের পরিবার। ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির সাংসদ মোশারফ হোসেন উল্লেখ করেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, কথিত দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল শ্রমিকরা। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাদেরকে উদ্ধার করে দেশে ফেরাতে গত ৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর দুটি পত্র (ডিও) দেন সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। পত্রে বলা হয়, ২৮ জন শ্রমিক জীবিকার জন্য কাজের সন্ধানে উচ্চ বেতনের আশায় ইন্ডিয়া তামিলনাড়ু গিয়ে কাজ করতে থাকে। তারা সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। ১৪ মাস কারাবন্দি, পরে তামিলনাড়ু আশ্রয় কেন্দ্রে আরও তিনমাস মানবেতর জীবন যাপন করে। বাংলাদেশী দূতাবাসসহ সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সংসদ সদস্য জানান, বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও আশেপাশের গ্রামের ২৮জন শ্রমিক জীবিকার তাগিদে ভারতের তামিলনাড়ু গিয়েছিল। নানা জটিলতার কারণে তারা সেখানে আটকাপড়ে। গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে ৩ মাস সেখানকার কেন্দ্রে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি পদক্ষেপ নেন। তার প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১৭ মাস ভারতের বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরেছেন শ্রমিকরা।
মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, ভারতে আটকাপড়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি জানার পরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। শ্রমিকদের পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া সবাইকে ডেকে একসঙ্গে বসে আপ্যায়ন করলাম। তাদের সুখ-দুঃখের কথাগুলোও শুনলাম।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভারতের বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরল বগুড়ার ২৮ শ্রমিক 

Update Time : ০৬:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়ে আটকপড়া বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ২৮ জন শ্রমিক দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ ১৭ মাস বন্দিদশায় থাকা বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও আশেপাশের গ্রামের শ্রমিকরা বর্তমানে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এছাড়া প্রতিশ্রুতি পূরণের সফল প্রচেষ্টায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে তিনি ভারতের তামিলনাড়ুতে আটকাপড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গতকাল নিজের ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বেশকটি ছবিসহ স্ট্যাটাসে মোশারফ হোসেন এমপি এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্প্রতি ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করে নন্দীগ্রামের ২৮জন শ্রমিক। তবে সামাজিক বিবেচনায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের ভদ্রদীঘি চারমাথা বাজারে ভারত ফেরত শ্রমিকদের নিয়ে সময় কাটিয়েছেন সংসদ সদস্য। আপ্যায়ন, উন্মুক্ত আলোচনা ও তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, সচিবসহ সংসদ সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বন্দিদশা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা শ্রমিকদের পরিবার। ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিএনপির সাংসদ মোশারফ হোসেন উল্লেখ করেন, মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জানা গেছে, কথিত দালালদের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল শ্রমিকরা। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাদেরকে উদ্ধার করে দেশে ফেরাতে গত ৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবর দুটি পত্র (ডিও) দেন সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন। পত্রে বলা হয়, ২৮ জন শ্রমিক জীবিকার জন্য কাজের সন্ধানে উচ্চ বেতনের আশায় ইন্ডিয়া তামিলনাড়ু গিয়ে কাজ করতে থাকে। তারা সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়। ১৪ মাস কারাবন্দি, পরে তামিলনাড়ু আশ্রয় কেন্দ্রে আরও তিনমাস মানবেতর জীবন যাপন করে। বাংলাদেশী দূতাবাসসহ সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে সংসদ সদস্য জানান, বুড়ইল ইউনিয়নের কহুলী ও আশেপাশের গ্রামের ২৮জন শ্রমিক জীবিকার তাগিদে ভারতের তামিলনাড়ু গিয়েছিল। নানা জটিলতার কারণে তারা সেখানে আটকাপড়ে। গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়ে ৩ মাস সেখানকার কেন্দ্রে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই তিনি পদক্ষেপ নেন। তার প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১৭ মাস ভারতের বন্দিদশা থেকে দেশে ফিরেছেন শ্রমিকরা।
মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, ভারতে আটকাপড়ে মানবেতর জীবন যাপন করলেও তাদের উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি জানার পরই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি। শ্রমিকদের পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই দেশে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়া সবাইকে ডেকে একসঙ্গে বসে আপ্যায়ন করলাম। তাদের সুখ-দুঃখের কথাগুলোও শুনলাম।