০১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নাটকীয়তার পরও জামায়াত প্যানেল ভরাডুবি, নির্বাচনে বিএনপির জয়
স্টাফ রিপোর্টার
- Update Time : ০৬:১৯:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
- / ২০ Time View
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ঘিরে নানা নাটকীয়তার পরও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের ভরাডুবি ঘটেছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি সমর্থিত বাদল-হিরু প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির ১২টি পদের সবকটি পদে এই প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর এবারই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পরিষদের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।
সভাপতি পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বাদল-হিরু প্যানেলের আতিকুর রহমান বাদল। তিনি গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯৬ ভোট। জামায়াত সমর্থিত সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সেলিম রেজা ছাতা প্রতীকে ২২৭ ভোট পেয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) চেম্বার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এরআগে রোববার শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। ১০৭৭ ভোটারের মধ্যে ৯৩০জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট পড়েছে ৮৬.০৩ শতাংশ।
দুটি রাজনৈতিক প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ২জন, সহসভাপতি পদে ৪ জন এবং পরিচালক পদে ২২জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সব মিলিয়ে ১২টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৮ জন প্রার্থী। ভোটগ্রহণ শেষে শেষে রাত ১০টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। তিনি আনারস প্রতীকে সর্বোচ্চ ৭২৬ ভোট পেয়েছেন। সহ-সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী মামদুদুর রহমান শিপন খেজুর গাছ প্রতীকে ৫৯১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
পরিচালক পদে বিজয়ী ৯ প্রার্থী- খন্দকার মেজবাহুল হক রন্টু (দোয়েল পাখি) ৬১২ ভোট, শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস (ফুটবল) ৫৯৬ ভোট, আজিজার রহমান মিল্টন (উড়োজাহাজ) ৫৭৯ ভোট, শাহিনুর ইসলাম সবুজ (কাপ পিরিচ) ৫৬৯ ভোট, এসএম নূর ই আলম সিদ্দিকী পল্লব (হরিণ) ৫৫৭ ভোট, রাসেদুল ইসলাম (মই) ৫৫৩ ভোট, শফিকুল ইসলাম খোকন (দোয়াত কলম) ৫৩২ ভোট, শামসুল হক বেনু (চেয়ারমার্কা) ৫৫২ ভোট এবং ডা. মতিউর রহমান (চশমা) ৪৬৬ ভোট।
নির্বাচনী ফলাফলের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিএনপি গরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হবে বলে ধারণা ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলে ভরাডুবি হবে, এটা কেউ ভাবেনি। কারণ বগুড়ায় জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনের পর চেম্বারে জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের শোচনীয় পরাজয় সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ নির্বাচন ঘিরে পক্ষপাত, নানা অনিয়ম, পোস্টার সাঁটানোসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল জামায়াত সমর্থিত প্যানেল। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেন সেলিম-এরশাদ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. সেলিম রেজা। অভিযোগের পর ভোটের আগেরদিন শনিবার নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নানা নাটকীয়তার পরও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সর্বশেষ ২০০৭ সালে সরাসরি ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হন ফজলুর রহমান পাইকার। এরপর ২০০৯ সালে নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। ২০১৩ ও ২০১৭ সালে বিনা ভোটে নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়। জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন।
Tag :










