০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৭:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / ৫২ Time View
​পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বগুড়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ত্যাগের বিনিময়ে শহরের প্রায় ৪০০ জন গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে উন্নতমানের ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক (উপসচিব) মোঃ আলমগীর কবির।
​পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিয়াম প্রতিষ্ঠান বগুড়ার অধ্যক্ষ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মোঃ আরাফাত হোসেন, সহকারী পরিচালক, বিয়াম ফাউন্ডেশন।​সালমা আক্তার,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)। ​মোঃ রমজান আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার।
​এবারের ঈদ সামগ্রী বিতরণের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ও প্রেরণাদায়ক গল্প। অধ্যক্ষ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের ইফতারের জন্য স্কুল ফান্ড থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তারা সেই টাকা নিজেরা ব্যয় না করে বরং নিজেদের পকেট থেকে আরও অর্থ যুক্ত করে একটি বিশাল তহবিল গঠন করেন। এই অর্থ দিয়েই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কেনা হয়েছে ঈদ সামগ্রী।
​উপহার সামগ্রীর তালিকায় যা ছিল ​জনপ্রতি প্রায় ১,০০০ টাকা মূল্যের খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটে ছিল:​পোলাও চাল, ডাল ও সয়াবিন তেল।​চিনি,সেমাই ও গুঁড়ো দুধ। পেঁয়াজ, লবণ,বাদাম ও কিশমিশ।
​প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন: ঈদ মানেই আনন্দ এবং ভাগাভাগি। যারা অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চায়, তারাই প্রকৃত মানুষ। বিয়ামের এই উদ্যোগ সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি মডেল বা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
​অধ্যক্ষ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সেবার মানসিকতা তৈরি করতেই এই আয়োজন। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে, তাই তাদের সামনে এমন মানবিক কাজের উদাহরণ থাকা জরুরি। তিনি ভবিষ্যতে এই সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
​ঈদ সামগ্রী হাতে পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা যায়। তারা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে অধ্যক্ষ মহোদয়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

Update Time : ০৭:৪৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
​পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বগুড়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ত্যাগের বিনিময়ে শহরের প্রায় ৪০০ জন গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে উন্নতমানের ঈদ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াম ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক (উপসচিব) মোঃ আলমগীর কবির।
​পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিয়াম প্রতিষ্ঠান বগুড়ার অধ্যক্ষ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: মোঃ আরাফাত হোসেন, সহকারী পরিচালক, বিয়াম ফাউন্ডেশন।​সালমা আক্তার,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)। ​মোঃ রমজান আলী আকন্দ, জেলা শিক্ষা অফিসার।
​এবারের ঈদ সামগ্রী বিতরণের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ও প্রেরণাদায়ক গল্প। অধ্যক্ষ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের ইফতারের জন্য স্কুল ফান্ড থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু তারা সেই টাকা নিজেরা ব্যয় না করে বরং নিজেদের পকেট থেকে আরও অর্থ যুক্ত করে একটি বিশাল তহবিল গঠন করেন। এই অর্থ দিয়েই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কেনা হয়েছে ঈদ সামগ্রী।
​উপহার সামগ্রীর তালিকায় যা ছিল ​জনপ্রতি প্রায় ১,০০০ টাকা মূল্যের খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটে ছিল:​পোলাও চাল, ডাল ও সয়াবিন তেল।​চিনি,সেমাই ও গুঁড়ো দুধ। পেঁয়াজ, লবণ,বাদাম ও কিশমিশ।
​প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিকুর রহমান বলেন: ঈদ মানেই আনন্দ এবং ভাগাভাগি। যারা অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে চায়, তারাই প্রকৃত মানুষ। বিয়ামের এই উদ্যোগ সারা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি মডেল বা উদাহরণ হয়ে থাকবে।
​অধ্যক্ষ মুহাঃ মুস্তাফিজুর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সেবার মানসিকতা তৈরি করতেই এই আয়োজন। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে, তাই তাদের সামনে এমন মানবিক কাজের উদাহরণ থাকা জরুরি। তিনি ভবিষ্যতে এই সেবামূলক কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
​ঈদ সামগ্রী হাতে পেয়ে অসহায় মানুষগুলোর মুখে তৃপ্তির হাসি দেখা যায়। তারা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে অধ্যক্ষ মহোদয়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন।