০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির একক জনপ্রিয়তা,মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত বগুড়া-৪ নির্বাচনী এলাকা  

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ১২:২৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৬৮৮ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":89760,"total_draw_actions":3,"layers_used":2,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":2,"draw":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়া-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়েছেন। নিয়মিত এলাকায় ছুটছেন বিএনপি ও জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। গ্রামীণ জনপদে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার, ফেস্টুন এবং অস্থায়ী বিলবোর্ড। নির্বাচনী মাঠ গোছাতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। দিচ্ছেন আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি। বিএনপির দুর্গে গণসংযোগে তৎপর রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, সব রাজনৈতিক দল সরব হলেও অনুপস্থিত আছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একসময়ের দাপুটে নেতারা। সবখানেই পতিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্য।
নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন বিএনপির ক্লিন ইমেজ খ্যাত সাবেক এমপি মো.মোশারফ হোসেন। ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপির আরেক জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা। নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আগাম মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হতে পারেন ডা. আব্দুল্লাহ আল সানী। তিনি দলটির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক। এখনো প্রচারণায় আসেনি কোনো দায়িত্বশীল নেতা। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় গুঞ্জন চলছে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হতে পারেন বায়েজিদ শাহাদাৎ। অপেক্ষায় আছে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক।
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত। নিয়মিত দলীয় সভা, সমাবেশ, ব্যাপক প্রচারণা, সামাজিক কর্মকান্ড, আর্থিক সহায়তা, মতবিনিময়, উন্নয়নে সহযোগিতা ও গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন মোশারফ হোসেন।
এই আসনে বিএনপির ক্লিন ইমেজ খ্যাত আরেক জননেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা। তিনি ওলামাদল কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি প্রায় দুই ডজন মামলায় কারাবন্দি ও নির্যাতিত। কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনিও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে । দলীয় সভা, সমাবেশ,কর্মী মূল্যায়ন ,প্রচারণা, সামাজিক কর্মকান্ড, আর্থিক সহায়তা,মতবিনিময়, উন্নয়নে সহযোগিতা ও গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন তিনি।
ভোটাররা বলছেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি বরাবরই এগিয়ে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা। ভোটারদের মাঝেও এখন নির্বাচনী আমেজ। অনেকে দীর্ঘদিন ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ ঘোচাতে চান।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বগুড়া-৪ আসন বিএনপির দখলে ছিল। দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। বিএনপির দুর্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের রেজাউল করিম তানসেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বেদখল হওয়া বিএনপির দুর্গ পুনরুদ্ধার করেন মোশারফ হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন মোশারফ।
কাহালু উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৩৯ বগুড়া-৪ আসন। দুই উপজেলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের দুর্গ গড়েছিলেন প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অসুস্থ হয়ে চলতি বছরের ১ জুন মৃত্যবরণ করেন। তিনি কাহালু উপজেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত সমর্থকদের কাছে জননন্দিত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর আসনটি দখল করতে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বিএনপির একক জনপ্রিয়তা,মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত বগুড়া-৪ নির্বাচনী এলাকা  

Update Time : ১২:২৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বগুড়া-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৎপর হয়েছেন। নিয়মিত এলাকায় ছুটছেন বিএনপি ও জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা। গ্রামীণ জনপদে সাঁটানো হয়েছে পোস্টার, ফেস্টুন এবং অস্থায়ী বিলবোর্ড। নির্বাচনী মাঠ গোছাতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। দিচ্ছেন আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি। বিএনপির দুর্গে গণসংযোগে তৎপর রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, সব রাজনৈতিক দল সরব হলেও অনুপস্থিত আছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। পালিয়ে বেড়াচ্ছেন একসময়ের দাপুটে নেতারা। সবখানেই পতিত আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শূন্য।
নন্দীগ্রাম ও কাহালু উপজেলায় গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন বিএনপির ক্লিন ইমেজ খ্যাত সাবেক এমপি মো.মোশারফ হোসেন। ব্যাপক প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপির আরেক জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা। নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আগাম মনোনীত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হতে পারেন ডা. আব্দুল্লাহ আল সানী। তিনি দলটির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক। এখনো প্রচারণায় আসেনি কোনো দায়িত্বশীল নেতা। এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় গুঞ্জন চলছে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হতে পারেন বায়েজিদ শাহাদাৎ। অপেক্ষায় আছে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন শাহীন মোস্তফা কামাল ফারুক।
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত। নিয়মিত দলীয় সভা, সমাবেশ, ব্যাপক প্রচারণা, সামাজিক কর্মকান্ড, আর্থিক সহায়তা, মতবিনিময়, উন্নয়নে সহযোগিতা ও গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন মোশারফ হোসেন।
এই আসনে বিএনপির ক্লিন ইমেজ খ্যাত আরেক জননেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা। তিনি ওলামাদল কেন্দ্রীয় নেতা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি প্রায় দুই ডজন মামলায় কারাবন্দি ও নির্যাতিত। কাহালু-নন্দীগ্রাম উপজেলায় তিনিও ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে । দলীয় সভা, সমাবেশ,কর্মী মূল্যায়ন ,প্রচারণা, সামাজিক কর্মকান্ড, আর্থিক সহায়তা,মতবিনিময়, উন্নয়নে সহযোগিতা ও গণসংযোগে তৎপর রয়েছেন তিনি।
ভোটাররা বলছেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি বরাবরই এগিয়ে। আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গ্রামীণ জনপদে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা। ভোটারদের মাঝেও এখন নির্বাচনী আমেজ। অনেকে দীর্ঘদিন ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ ঘোচাতে চান।
১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত বগুড়া-৪ আসন বিএনপির দখলে ছিল। দলটি ২০১৪ সালের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। বিএনপির দুর্গে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের রেজাউল করিম তানসেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বেদখল হওয়া বিএনপির দুর্গ পুনরুদ্ধার করেন মোশারফ হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন মোশারফ।
কাহালু উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৩৯ বগুড়া-৪ আসন। দুই উপজেলায় বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের দুর্গ গড়েছিলেন প্রয়াত অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অসুস্থ হয়ে চলতি বছরের ১ জুন মৃত্যবরণ করেন। তিনি কাহালু উপজেলা পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও জামায়াত সমর্থকদের কাছে জননন্দিত নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর আসনটি দখল করতে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী।