০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় সাইবার বুলিং টার্গেটে বিএনপি, নেতিবাচক প্রভাব 

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০২:০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৪৮৩ Time View
বগুড়ায় নামে বেনামে বেড়েছে অসংখ্য ফেক ফেসবুক আইডি ও পেজ। বগুড়ার জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ছবির সঙ্গে খুবই অশালীন মন্তব্যসহ মিথ্যা ছড়াচ্ছে। হয়রানি উৎপীড়নে তৃণমূলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নেতারা সামাজিকভাবে অপমানিত হচ্ছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করছে একটি গোষ্ঠী। ট্যাগিং ও সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যরাও নেতিবাচক প্রচারণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিএনপি নেতাদের মতো সাংবাদিকরাও ডিজিটাল হয়রানি বা উৎপীড়ন ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এ অবস্থায় অনেকে মান-সম্মান ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে মনোবল ভাঙতে মানসিক চাপ, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, দলের কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে ফেসবুকে অপপ্রচার চলছে। এতে সাংগঠনিক কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন- বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক সাংবাদিক কালাম আজাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ।
বিএনপির বিরুদ্ধে ট্যাগিং, সাইবার বুলিংয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বগুড়া-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন এবং বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম। নেতারা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দলসহ নেতাদের নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অদৃশ্য অপরাধীদের রুখতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সম্প্রতি অটোরিকশা ভাঙচুরের সঙ্গে বগুড়ার যুবদলের নাম জড়িয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। এনিয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাইবার বুলিং করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বগুড়ার নয়, অন্য কোনো এলাকার। এই ঘটনার সঙ্গে যুবদলের সংশ্লিষ্টতা নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতায় মেতেছে একটি গোষ্ঠী।
বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ইকবাল বাহার জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার ব্যক্তিরা থানায় জিডি করেছেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। অপরাধী শনাক্ত হলে আইনের আওতায় আনা হবে।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বগুড়ায় সাইবার বুলিং টার্গেটে বিএনপি, নেতিবাচক প্রভাব 

Update Time : ০২:০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বগুড়ায় নামে বেনামে বেড়েছে অসংখ্য ফেক ফেসবুক আইডি ও পেজ। বগুড়ার জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ছবির সঙ্গে খুবই অশালীন মন্তব্যসহ মিথ্যা ছড়াচ্ছে। হয়রানি উৎপীড়নে তৃণমূলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নেতারা সামাজিকভাবে অপমানিত হচ্ছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এবং দায়িত্বশীল শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করছে একটি গোষ্ঠী। ট্যাগিং ও সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যরাও নেতিবাচক প্রচারণা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। বিএনপি নেতাদের মতো সাংবাদিকরাও ডিজিটাল হয়রানি বা উৎপীড়ন ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এ অবস্থায় অনেকে মান-সম্মান ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে মনোবল ভাঙতে মানসিক চাপ, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, দলের কর্মীদের মধ্যে সন্দেহ, অবিশ্বাস ও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে ফেসবুকে অপপ্রচার চলছে। এতে সাংগঠনিক কাজের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন- বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মো. মোশারফ হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে আলম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক সাংবাদিক কালাম আজাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ।
বিএনপির বিরুদ্ধে ট্যাগিং, সাইবার বুলিংয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বগুড়া-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন এবং বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম। নেতারা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দলসহ নেতাদের নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে একটি গোষ্ঠী। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অদৃশ্য অপরাধীদের রুখতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সম্প্রতি অটোরিকশা ভাঙচুরের সঙ্গে বগুড়ার যুবদলের নাম জড়িয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়। এনিয়ে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাইবার বুলিং করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বগুড়ার নয়, অন্য কোনো এলাকার। এই ঘটনার সঙ্গে যুবদলের সংশ্লিষ্টতা নেই। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপতৎপরতায় মেতেছে একটি গোষ্ঠী।
বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. ইকবাল বাহার জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার ব্যক্তিরা থানায় জিডি করেছেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশের সাইবার ইউনিট। অপরাধী শনাক্ত হলে আইনের আওতায় আনা হবে।