০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে হামলার প্রতিশোধ ও চর দখল করায় বিএনপির ২ নেতাকে কুপিয়ে জখম

Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৬৩৬ Time View

ভোলা প্রতিনিধি।।
হামলার প্রতিশোধ ও চর দখল করায় বিএনপির ২ নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে বিক্ষুব্ধ চরবাসী। এ ঘটনায় দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে যুবদল নেতাসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে মো. ইউছুফ বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলাটি করেন। তিনি আহত বিএনপি নেতা অধ্যাপক রেজাউল করিম খন্দকারের ভাই। এর আগে রোববার চর দখল করায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে কোপায় বলে জানা গেছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন আবুল হোসেন, দক্ষিণ আইচা থানা যুবদল সভাপতি ইকবাল হাওলাদার, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাস্টার প্রমুখ।

বিএনপি নেতা সাইফুল বলেন, দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম খন্দকার একজন ভূমিদস্যু । তার নেশা ও পেশা হচ্ছে চরের অসহায় মানুষের জমিজমা দখল করা। এরই অংশ হিসেবে আরেকটি চর দখল করায় তার ওপর হামলা হয়। এ সময় তার সহযোগী ও চর মানিকা ইউনিয়ন বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহেরও আহত হন। কিন্তু অধ্যাপক রেজাউল মামলা করেছেন যুবদল ও বিএনপি নেতাদের নামে।

দক্ষিণ-পূর্ব আইচা যৌথ কৃষি খামার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বলেন, যৌথ কৃষি খামারের আংশিক জমি নিয়ে অধ্যাপক রেজাউল দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ করছেন। তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালে কিছু জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন, যা ২০২৪ সালে বাতিল হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে রায় আমরা পাই। এই চরের অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম আবুল হোসেন। তিনি পুরো চর দেখভাল করছিলেন।

আবুল হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, রোববার সকালের দিকে বিএনপি নেতা রেজাউলের নেতৃত্বে লাঠিয়াল বাহিনী দা, ছেনি, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুটি স্পিড বোট এবং একটি ট্রলারে অর্ধ শতাধিক লোক নিয়ে চরে হামলা চালান। তাদের দেখে পালিয়ে যান শ্রমিকরা। এ সময় হামলাকারীরা আমাদের বাসায় হানা দেন। আবুল হোসেন বাড়িতে না থাকায় তারা আমার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। তারা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এসবের প্রতিবাদ করায় আমাকে বেধড়ক পেটানো হয়।

স্থানীয়রা বলেন, মনোয়ারার ওপর হামলা এবং নির্যাতনের খবরে ক্ষুব্ধ হন তার স্বামী আবুল হোসেন। তিনি বাড়ি ফেরার আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। কিছুক্ষণ পর তাদের ধাওয়া করে বিএনপি নেতা রেজাউল ও আবু তাহেরকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা করেন আবুল হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা রেজাউলের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার কয়েক অনুসারী বলেন, রেজাউল ভূমিদস্যু নন। আসামিরা নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চরফ্যাশনে হামলার প্রতিশোধ ও চর দখল করায় বিএনপির ২ নেতাকে কুপিয়ে জখম

Update Time : ১০:১৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

ভোলা প্রতিনিধি।।
হামলার প্রতিশোধ ও চর দখল করায় বিএনপির ২ নেতাকে কুপিয়ে জখম করেছে বিক্ষুব্ধ চরবাসী। এ ঘটনায় দক্ষিণ আইচা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে যুবদল নেতাসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে মো. ইউছুফ বাদী হয়ে দক্ষিণ আইচা থানায় মামলাটি করেন। তিনি আহত বিএনপি নেতা অধ্যাপক রেজাউল করিম খন্দকারের ভাই। এর আগে রোববার চর দখল করায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে কোপায় বলে জানা গেছে।

আসামিদের মধ্যে আছেন আবুল হোসেন, দক্ষিণ আইচা থানা যুবদল সভাপতি ইকবাল হাওলাদার, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক মাস্টার প্রমুখ।

বিএনপি নেতা সাইফুল বলেন, দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম খন্দকার একজন ভূমিদস্যু । তার নেশা ও পেশা হচ্ছে চরের অসহায় মানুষের জমিজমা দখল করা। এরই অংশ হিসেবে আরেকটি চর দখল করায় তার ওপর হামলা হয়। এ সময় তার সহযোগী ও চর মানিকা ইউনিয়ন বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহেরও আহত হন। কিন্তু অধ্যাপক রেজাউল মামলা করেছেন যুবদল ও বিএনপি নেতাদের নামে।

দক্ষিণ-পূর্ব আইচা যৌথ কৃষি খামার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান বলেন, যৌথ কৃষি খামারের আংশিক জমি নিয়ে অধ্যাপক রেজাউল দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ করছেন। তিনি ২০০৪ ও ২০০৫ সালে কিছু জমি বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন, যা ২০২৪ সালে বাতিল হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে গেলে রায় আমরা পাই। এই চরের অংশীদারদের মধ্যে অন্যতম আবুল হোসেন। তিনি পুরো চর দেখভাল করছিলেন।

আবুল হোসেনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বলেন, রোববার সকালের দিকে বিএনপি নেতা রেজাউলের নেতৃত্বে লাঠিয়াল বাহিনী দা, ছেনি, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দুটি স্পিড বোট এবং একটি ট্রলারে অর্ধ শতাধিক লোক নিয়ে চরে হামলা চালান। তাদের দেখে পালিয়ে যান শ্রমিকরা। এ সময় হামলাকারীরা আমাদের বাসায় হানা দেন। আবুল হোসেন বাড়িতে না থাকায় তারা আমার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করেন। তারা যাওয়ার সময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। এসবের প্রতিবাদ করায় আমাকে বেধড়ক পেটানো হয়।

স্থানীয়রা বলেন, মনোয়ারার ওপর হামলা এবং নির্যাতনের খবরে ক্ষুব্ধ হন তার স্বামী আবুল হোসেন। তিনি বাড়ি ফেরার আগেই পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। কিছুক্ষণ পর তাদের ধাওয়া করে বিএনপি নেতা রেজাউল ও আবু তাহেরকে পেয়ে তাদের ওপর হামলা করেন আবুল হোসেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা রেজাউলের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার কয়েক অনুসারী বলেন, রেজাউল ভূমিদস্যু নন। আসামিরা নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।