বগুড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট,অব্যবস্থাপনায় রোগীদের ভোগান্তি
- Update Time : ১২:১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৮৬ Time View

দীর্ঘদিনের জনবল সংকটে বগুড়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মী না থাকায় হাসপাতালে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাব পড়ছে রোগীদের ওপর। সরকারি সেবার এই ঘাটতির সুযোগে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগও বাড়ছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর তুলনায় চিকিৎসক খুবই কম। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক দিনে একবার এসে সংক্ষিপ্তভাবে রোগী দেখে চলে যান। প্রয়োজনীয় বেশির ভাগ ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাওয়া যায় না, বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হতে হয়। চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সিরিয়াল কাটার সময় জানানো হয় না। এতে অনেকে বিরক্ত হয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় সরকারি স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৪৯টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৯১ জন। শূন্য রয়েছে ১৫৮টি পদ। এই হিসাবের বাইরে রয়েছে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের নিজস্ব জনবল সংকট। ফলে জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবার এই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার। জেলায় বর্তমানে ৪১৯টি বেসরকারি ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সচল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর মধ্যে শতাধিক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সবিহীন। অনেক প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নেই, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও মানসম্মত নয়। এতে রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ আলম বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম ঠেকাতে ১৫ দিন পরপর মনিটরিং জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিয়ম পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অরভিল আহমেদ খোকন বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি ক্লিনিকে ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল অফিসার রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার বেহাল দশাও রোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। টয়লেট ও গোসলখানায় জমে থাকা আবর্জনা, ভাঙা কল, পিচ্ছিল মেঝে ও দুর্গন্ধে চিকিৎসা নিতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, ক্লিনার পদের তুলনায় কর্মরত জনবল কম থাকায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য ১২৯টি পদের মধ্যে ৯০ জন ক্লিনার কাজ করেন। আউটসোর্সিং এ করেন ৫ জন। এতবড় হসপিটালে এই জনবল দিয়ে কাজ করাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর এ মুর্শেদ বলেন, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।
জনগণের প্রত্যাশা,এই মনিটরিং ব্যবস্থা যেন দ্রুত কার্যকর হয় এবং সরকারি হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যাতে বগুড়ার মানুষ উন্নত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।











