
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। লিখিত এক বিবৃতিতে ভিডিওটির স্থান হিসেবে ঢাকার মগবাজারের একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, এটি পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অংশ।
গাজী নজরুল ইসলাম তার বিবৃতিতে বলেন, ভিডিওতে দেখা যাওয়া ১৮ বছর বয়সী মরিয়ম বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মরিয়ম বেগমের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর মগবাজারের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। পরে তারা কক্ষে ঢুকে পরিচয় জানতে চেয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অর্থ দেওয়ার পর তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে দাবি করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তিনি জানতে পারেন, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি মরিয়ম বেগমের মামা। তিনি অভিযোগ করেন, মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পূর্বশত্রুতাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়।
লিখিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা অর্থ না দিলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, চাঁদার টাকা না পেয়ে ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চরিত্রহননের অপচেষ্টা।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ সাজানো একটি ষড়যন্ত্র। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।