০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবাদমাধ্যমে নিয়োগে দম নয় ব্র্যান্ডে আস্থা

নিয়ন মতিয়ুল
  • Update Time : ০৫:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৯ Time View

বছর পাঁচেক আগের কথা। বাজারে মেগাবাজেটের পত্রিকা নিয়ে হাজির হওয়া ‘মাফিয়া ডন’ খ্যাত এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, তার টার্গেট প্রথম আলোকে বিট করা। সেজন্য চান ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিক।’শুনে চমকে গেলাম। নিউরনে গেঁথে গেল ‘ব্র্যান্ড’। মিডিয়া বিজনেসে স্কিলড, স্মার্ট এক সহকর্মী সম্প্রতি বললেন, “ভাই, ‘অমুক’ মিডিয়া তো আমারে নিল না। ওরা প্রোফাইলে ‘ব্র্যান্ড’ চায়।” শব্দটি স্মৃতি উসকে দিল। ক’দিন পর টগবগে এক সহকর্মী জানাল, পলিটিক্যাল ‘ব্র্যান্ডের’ এক টিভিতে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েও নিয়োগপত্র মেলেনি। ধারণা করলাম, প্রোফাইলে ‘ব্র্যান্ড’ না থাকায় তার চাকরি হয়নি।

সংবাদমাধ্যমে করপোরেট নিয়োগের এসব ঘটনা শুনে মনে পড়লো তেলেগু সিনেমা ‘সারাইনোডু’র (বাংলায় হিম্মত) বিশেষ এক দৃশ্যের সংলাপ। যেখানে ভিলেন (আদি) নায়ককে বলেন, “তুই আমাকে ছুঁতেও পারবি না। আমি একটা ভয়ঙ্কর ‘ব্র্যান্ড’….।” জবাবে নায়ক (আল্লু) আমেরিকা, জাপান, চায়না ব্র্যান্ডের দামি জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে বলেন, “কারো সঙ্গে টক্কর দিতে গেলে ‘ব্র্যান্ডের’ দরকার হয়। তার জন্য দম লাগে।” (বলা ভালো, দম এখানে সাহস, জেদ বা মানসিক শক্তি)।

সংবাদমাধ্যমে করপোরেট নিয়োগ সিস্টেমে দেখা যায়, দম যতই থাকুক, ‘ব্র্যান্ডকেই’ বেছে নেন নিয়োগকর্তারা। আর বিনিয়োগকারীরাও প্রজেক্ট তাদের হাতেই তুলে দেন বাজারে যাদের ‘ব্র্যান্ড’ ভেল্যু হাই লেভেলের। টকশোর বিশেষ মুখ কিংবা ‘ব্র্যান্ড’ মিডিয়ায় অভিজ্ঞতাওয়ালারা থাকেন পছন্দের শীর্ষে। যারা ট্রাডিশনাল প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েই প্রথম আলোকে টপকানোর টার্গেট করেন। আর অর্থনীতিভিত্তিক বিশেষায়িত মিডিয়া প্রজেক্টের হর্তারা দখল করতে চান বণিকবার্তার ইউনিক মার্কেট।

মৌলিক আইডিয়া, প্ল্যান ছাড়াই ঢাউস টিমের জন্য প্রজেক্ট বাগানো ব্র্যান্ড সম্পাদকেরা খুঁজতে থাকেন ‘ব্র্যান্ড’ সাবএডিটর, রিপোর্টার, নিউজ ম্যানেজার। প্রথম আলো, বণিকবার্তার বাইরে ডেইলিস্টার, কালেরকণ্ঠ, সমকালের মতো ‘ব্র্যান্ড’ সংবাদমাধ্যম থেকে ‘ব্র্যান্ড’ হায়ার করেন। এসব বহুমুখী ব্র্যান্ডের সমাহার ঘটিয়ে বানিয়ে ফেলেন মিডিয়ার ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ ব্র্যান্ড। শেষ অবধি যা পরিণত হয় ‘হোয়াইট এলিফ্যান্ট’ মিডিয়া হাউজে। সেই সঙ্গে মিডিয়ায় গেড়ে বসে এলিটিজম। একদল এলিট পুরো ইন্ড্রাস্টি দখলে নেন। যাদের মাসিক বেতন পৌঁছে ৬-৭ ডিজিটে। আরেকদল প্রান্তিক হিসেবে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা বেতনের জন্য হাহাকার করেন। ব্যাপক বৈষম্য থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকতায় নৈতিক অবক্ষয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট ইউনিক ‘ব্র্যান্ড’ গড়ে তুলতে প্রায়ই ব্যর্থ হন। ১৬৫ বছর আগের ঢাকার প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম ধারন করে ২০২১ সালে চালু হওয়া ‘ঢাকাপ্রকাশ’ অনলাইন পোর্টালে ঘটেছিল তেমনি ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিকদের সমাহার। অথচ কিছুদিনের মধ্যেই টিম ভাঙা শুরু হয়। একই বছরে ‘ব্র্যান্ড’ লেখক, সাহিত্যিকদের নিয়ে গড়ে তোলা ‘সংবাদপ্রকাশ’ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বছর দুয়েক পরে ২০২৩ সালে মেগা ‘ব্র্যান্ড’ টিম নিয়ে চালু হওয়া ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পাঠকের তুঙ্গে উঠা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। একই বছরে ‘ব্র্যান্ড’ তারকা সাংবাদিকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘খবরের কাগজ’ও কোনো চমক-ধমক ছাড়াই ‘হাঁটিহাঁটি’ যাত্রা অব্যাহত রাখে।

সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ মেগা বাজেটের চারটি দৈনিক বাজারে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে। যেগুলোতে গড়ে উঠছে ‘ব্র্যান্ড’ মেগা টিম। একইভাবে ‘ব্র্যান্ড’ টিমের হাত ধরে বিশেষায়িত দৈনিক ‘জাতীয় অর্থনীতি’ বাজারে ঢুকছে পহেলা ফেব্রুয়ারিতে। পাশাপাশি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের এডিটোরিয়ালের রাজনৈতিক স্টিয়ারিং বদলে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়ে শিগগিরই মেগাযাত্রা শুরু করছে মেগা বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল মেগা নিউজ প্লাটফর্ম। যেখানে বেস্ট চয়েস ‘ব্র্যান্ড’ টিম তৈরি হচ্ছে। দমের চেয়ে ‘ব্র্যান্ডে’ বেশি আস্থা রাখা এসব মেগা বাজেটের সংবাদমাধ্যম কতটা কোয়ালিটি ইউনিক ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠতে পারে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

সংবাদমাধ্যমে নিয়োগে দম নয় ব্র্যান্ডে আস্থা

Update Time : ০৫:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বছর পাঁচেক আগের কথা। বাজারে মেগাবাজেটের পত্রিকা নিয়ে হাজির হওয়া ‘মাফিয়া ডন’ খ্যাত এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপে জানা গেল, তার টার্গেট প্রথম আলোকে বিট করা। সেজন্য চান ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিক।’শুনে চমকে গেলাম। নিউরনে গেঁথে গেল ‘ব্র্যান্ড’। মিডিয়া বিজনেসে স্কিলড, স্মার্ট এক সহকর্মী সম্প্রতি বললেন, “ভাই, ‘অমুক’ মিডিয়া তো আমারে নিল না। ওরা প্রোফাইলে ‘ব্র্যান্ড’ চায়।” শব্দটি স্মৃতি উসকে দিল। ক’দিন পর টগবগে এক সহকর্মী জানাল, পলিটিক্যাল ‘ব্র্যান্ডের’ এক টিভিতে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েও নিয়োগপত্র মেলেনি। ধারণা করলাম, প্রোফাইলে ‘ব্র্যান্ড’ না থাকায় তার চাকরি হয়নি।

সংবাদমাধ্যমে করপোরেট নিয়োগের এসব ঘটনা শুনে মনে পড়লো তেলেগু সিনেমা ‘সারাইনোডু’র (বাংলায় হিম্মত) বিশেষ এক দৃশ্যের সংলাপ। যেখানে ভিলেন (আদি) নায়ককে বলেন, “তুই আমাকে ছুঁতেও পারবি না। আমি একটা ভয়ঙ্কর ‘ব্র্যান্ড’….।” জবাবে নায়ক (আল্লু) আমেরিকা, জাপান, চায়না ব্র্যান্ডের দামি জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে বলেন, “কারো সঙ্গে টক্কর দিতে গেলে ‘ব্র্যান্ডের’ দরকার হয়। তার জন্য দম লাগে।” (বলা ভালো, দম এখানে সাহস, জেদ বা মানসিক শক্তি)।

সংবাদমাধ্যমে করপোরেট নিয়োগ সিস্টেমে দেখা যায়, দম যতই থাকুক, ‘ব্র্যান্ডকেই’ বেছে নেন নিয়োগকর্তারা। আর বিনিয়োগকারীরাও প্রজেক্ট তাদের হাতেই তুলে দেন বাজারে যাদের ‘ব্র্যান্ড’ ভেল্যু হাই লেভেলের। টকশোর বিশেষ মুখ কিংবা ‘ব্র্যান্ড’ মিডিয়ায় অভিজ্ঞতাওয়ালারা থাকেন পছন্দের শীর্ষে। যারা ট্রাডিশনাল প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েই প্রথম আলোকে টপকানোর টার্গেট করেন। আর অর্থনীতিভিত্তিক বিশেষায়িত মিডিয়া প্রজেক্টের হর্তারা দখল করতে চান বণিকবার্তার ইউনিক মার্কেট।

মৌলিক আইডিয়া, প্ল্যান ছাড়াই ঢাউস টিমের জন্য প্রজেক্ট বাগানো ব্র্যান্ড সম্পাদকেরা খুঁজতে থাকেন ‘ব্র্যান্ড’ সাবএডিটর, রিপোর্টার, নিউজ ম্যানেজার। প্রথম আলো, বণিকবার্তার বাইরে ডেইলিস্টার, কালেরকণ্ঠ, সমকালের মতো ‘ব্র্যান্ড’ সংবাদমাধ্যম থেকে ‘ব্র্যান্ড’ হায়ার করেন। এসব বহুমুখী ব্র্যান্ডের সমাহার ঘটিয়ে বানিয়ে ফেলেন মিডিয়ার ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ ব্র্যান্ড। শেষ অবধি যা পরিণত হয় ‘হোয়াইট এলিফ্যান্ট’ মিডিয়া হাউজে। সেই সঙ্গে মিডিয়ায় গেড়ে বসে এলিটিজম। একদল এলিট পুরো ইন্ড্রাস্টি দখলে নেন। যাদের মাসিক বেতন পৌঁছে ৬-৭ ডিজিটে। আরেকদল প্রান্তিক হিসেবে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা বেতনের জন্য হাহাকার করেন। ব্যাপক বৈষম্য থেকেই শুরু হয় সাংবাদিকতায় নৈতিক অবক্ষয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিকদের সিন্ডিকেট ইউনিক ‘ব্র্যান্ড’ গড়ে তুলতে প্রায়ই ব্যর্থ হন। ১৬৫ বছর আগের ঢাকার প্রথম বাংলা সংবাদপত্রের নাম ধারন করে ২০২১ সালে চালু হওয়া ‘ঢাকাপ্রকাশ’ অনলাইন পোর্টালে ঘটেছিল তেমনি ‘ব্র্যান্ড’ সাংবাদিকদের সমাহার। অথচ কিছুদিনের মধ্যেই টিম ভাঙা শুরু হয়। একই বছরে ‘ব্র্যান্ড’ লেখক, সাহিত্যিকদের নিয়ে গড়ে তোলা ‘সংবাদপ্রকাশ’ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। বছর দুয়েক পরে ২০২৩ সালে মেগা ‘ব্র্যান্ড’ টিম নিয়ে চালু হওয়া ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পাঠকের তুঙ্গে উঠা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। একই বছরে ‘ব্র্যান্ড’ তারকা সাংবাদিকদের নিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘খবরের কাগজ’ও কোনো চমক-ধমক ছাড়াই ‘হাঁটিহাঁটি’ যাত্রা অব্যাহত রাখে।

সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষ করপোরেট শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ মেগা বাজেটের চারটি দৈনিক বাজারে আনার প্রস্তুতি নিয়েছে। যেগুলোতে গড়ে উঠছে ‘ব্র্যান্ড’ মেগা টিম। একইভাবে ‘ব্র্যান্ড’ টিমের হাত ধরে বিশেষায়িত দৈনিক ‘জাতীয় অর্থনীতি’ বাজারে ঢুকছে পহেলা ফেব্রুয়ারিতে। পাশাপাশি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের এডিটোরিয়ালের রাজনৈতিক স্টিয়ারিং বদলে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়ে শিগগিরই মেগাযাত্রা শুরু করছে মেগা বাজেটের আন্তর্জাতিক মানের একটি ডিজিটাল মেগা নিউজ প্লাটফর্ম। যেখানে বেস্ট চয়েস ‘ব্র্যান্ড’ টিম তৈরি হচ্ছে। দমের চেয়ে ‘ব্র্যান্ডে’ বেশি আস্থা রাখা এসব মেগা বাজেটের সংবাদমাধ্যম কতটা কোয়ালিটি ইউনিক ‘ব্র্যান্ড’ হয়ে উঠতে পারে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে।