০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মফস্বল সাংবাদিকরাই স্টার

নিয়ন মতিয়ুল
  • Update Time : ০১:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ৩০৫ Time View

চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনকে মফস্বল সাংবাদিকতার দিকপাল বলা হলে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরাই আসল স্টার। তারাই মূলত এসি রুমে থাকা অভিজাত সংবাদমাধ্যমকে প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমে পরিণত করেন। কয়েক দশক আগেও ঢাকার বিখ্যাত সম্পাদকেরা মফস্বল সাংবাদিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। প্রত্যেকের নাম মনে রাখতেন। মফস্বল থেকে কেউ ঢাকা অফিসে এলে সম্পাদকেরা গর্বের সঙ্গে হাউজের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। ঢাকার বাইরের এক একটা রিপোর্টের কারণে পত্রিকা বা সংবাদমাধ্যমে বাজারমূল্য তরতর করে বেড়ে যেত।

রাজধানী কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা মূলত রাজনীতিনির্ভর। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার প্রবল প্রবণতা। সে বিচারে ঢাকার সাংবাদিকতায় প্রান্তিকের সাধারণ মানুষ কিংবা সমাজের কোনো কাজে আসে না। বিগত শতকের মাঝামাঝি থেকেই সময়ের দাবিতে অনিবার্যভাবে সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক মিশন শুরু করছিল। সেই ধারাবাহিকতা থেকে যায় স্বাধীনতার পরও। নব্বই দশকে টিভি মিডিয়ায় ভর করে যেসব সাংবাদিক স্টার হয়ে উঠেন তাদের বেশিরভাগ ক্যাম্পাস লাইফে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছেন। ফলে তাদের মননে মগজে থাকা রাজনৈতিক আদর্শের বাস্তবায়নই তারা করেছিলেন সংবাদমাধ্যমের ভেতর দিয়ে।

তবে মফস্বল সাংবাদিকতায় রাজনৈতিক আদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়নের চেয়ে মানুষের বাস্তব সমস্যা, নিপীড়ন, বৈষম্য, বিচারহীনতা, স্থানীয় সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের সঠিকপথে চালিত করাই মূল লক্ষ্য। যার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা ‘দেবতামূল্য’ পেয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকতার এই ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। ফলে মফস্বলের বিশুদ্ধ সাংবাদিকতা মোকাবিলার জন্যই নানা প্রলোভনে প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক বলয় তৈরির চেষ্টা চালান ক্ষমতাসীনরা। ফলে ঢাকার বাইরের আর কোনো মোনাজাতউদ্দিন যেন জন্ম নিতে না পারে সে চেষ্টা সফল হয়।

তবে নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে এখনও মফস্বলে অনেক স্মার্ট, মেধাবী সাংবাদিক নিরলসভাবে কাজ করছেন। এমনকি, মফস্বল সাংবাদিক বা প্রতিনিধিদের বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজধানীর শতশত পত্রিকা টিকে থাকছে। শুধু তাই নয়, দশকের পর দশক ধরে প্রভাবশালী গণমাধ্যমের ভূমিকাও পালন করছে। তবে কতিপয় অপেশাদার সম্পাদক বা বার্তাপ্রধানের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।প্রখ্যাত দু-একজন সম্পাদকের অনৈতিক প্রস্তাবের কাছেও হার মেনেছেন মফস্বলের অনেক সাংবাদিক। এর ওপর সংবাদমাধ্যমের ডিজিটালাইজেশনের মহামারিতে কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নয়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

২.
মফস্বল সাংবাদিকতা নিয়ে ৭ ডিসেম্বর দৈনিক ‘আমার দেশ’ ও ৯ ডিসেম্বর বিডিনিউজে দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম খবরের শিরোনাম “এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব, ‘সাংবাদিক’ ৩০০-র অধিক”। সাবহেডে লেখা, “চাঁদাবাজির হাতিয়ার প্রেস কার্ড”। ইন্ট্রোতে লেখা, ‘বেশিরভাগ সাংবাদিকই পেশাকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত প্রভাব, চাঁদাবাজি, হুমকি আর দাপট দেখানোর ঢাল হিসেবে।’ বর্ষীয়ান এক সাংবাদিকের ভাষ্য, ২০–৩০ বছর সম্মান নিয়ে কাজ করেছেন। এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না।

দ্বিতীয় খবরের শিরোনাম, “বরগুনার ৯০ ভাগ সাংবাদিক ‘চাঁদাবাজ’, বললেন খাদ্য কর্মকর্তা”। বরগুনা সদরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল হক ক্যামেরার সামনেই বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ, একদম স্পষ্ট বললাম। আমার কাছে যতজন আসছে, নাইনটি পারসেন্ট চাঁদাবাজ, ক্যামেরার সামনে বলে দিলাম। যান, ওকে। ” আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, “আমার কাছে যতজন আসছে, এর মধ্যে একজনকে দড়ি দিয়েও বাঁধছি। পালাই গেছে।”

দুটো খবরের কমন শব্দ হচ্ছে, ‘চাঁদাবাজি’। প্রথম খবরে সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভাজন বা সিন্ডিকেটও যে বাড়ছে সেটা স্পষ্ট। দ্বিতীয় খবরে ৯০ ভাগ সাংবাদিকই যে চাঁদাবাজ- সেটা দাবি করা হচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, তারা এত সাংবাদিক জীবনেও দেখেননি। যারা আবদার পূরণ না করলে সিরিজ নিউজ করছেন। অনেকে সরাসরি টাকা চান। না দিলে ফেসবুক-ইউটিউবে ভুয়া প্রচারণা চালান। খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় হকার, মুদি দোকানদার, তরকারিওয়ালা, রাজমিস্ত্রি, ড্রাইভার, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, এমনকি মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দালালেরা টাকার বিনিময়ে ‘প্রেস কার্ড’ নিচ্ছেন। যা চাঁদাবাজির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

খবর দুটো খুবই উদ্বেগজনক। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঘটনাগুলো শুধু শ্যামনগর বা বরগুনা সদরের বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয়, বরং গোটার দেশের সাধারণ চিত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকার বাইরের মোনাজাতউদ্দিনের উত্তরসূরিরা কীভাবে নষ্ট হচ্ছে, কেন হচ্ছে- তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। সাংবাদিকতায় সারা দেশে লক্ষাধিক কর্মী রয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে হাজার হাজার কর্মী। যাদের হাত ধরে দেশে গণতন্ত্রের দিগন্ত খুলতে পারে। সেটা বুঝতে হবে রাজনৈতিক দল, সরকার, গণমাধ্যমের বিনিয়োগকারীদের। দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে, সংবাদমাধ্যমকে দল বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মফস্বল সাংবাদিকরাই স্টার

Update Time : ০১:৪৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

চারণ সাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিনকে মফস্বল সাংবাদিকতার দিকপাল বলা হলে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকরাই আসল স্টার। তারাই মূলত এসি রুমে থাকা অভিজাত সংবাদমাধ্যমকে প্রকৃতপক্ষে গণমাধ্যমে পরিণত করেন। কয়েক দশক আগেও ঢাকার বিখ্যাত সম্পাদকেরা মফস্বল সাংবাদিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকতেন। প্রত্যেকের নাম মনে রাখতেন। মফস্বল থেকে কেউ ঢাকা অফিসে এলে সম্পাদকেরা গর্বের সঙ্গে হাউজের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। ঢাকার বাইরের এক একটা রিপোর্টের কারণে পত্রিকা বা সংবাদমাধ্যমে বাজারমূল্য তরতর করে বেড়ে যেত।

রাজধানী কেন্দ্রিক সাংবাদিকতা মূলত রাজনীতিনির্ভর। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার প্রবল প্রবণতা। সে বিচারে ঢাকার সাংবাদিকতায় প্রান্তিকের সাধারণ মানুষ কিংবা সমাজের কোনো কাজে আসে না। বিগত শতকের মাঝামাঝি থেকেই সময়ের দাবিতে অনিবার্যভাবে সংবাদমাধ্যম রাজনৈতিক মিশন শুরু করছিল। সেই ধারাবাহিকতা থেকে যায় স্বাধীনতার পরও। নব্বই দশকে টিভি মিডিয়ায় ভর করে যেসব সাংবাদিক স্টার হয়ে উঠেন তাদের বেশিরভাগ ক্যাম্পাস লাইফে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করেছেন। ফলে তাদের মননে মগজে থাকা রাজনৈতিক আদর্শের বাস্তবায়নই তারা করেছিলেন সংবাদমাধ্যমের ভেতর দিয়ে।

তবে মফস্বল সাংবাদিকতায় রাজনৈতিক আদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়নের চেয়ে মানুষের বাস্তব সমস্যা, নিপীড়ন, বৈষম্য, বিচারহীনতা, স্থানীয় সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের সঠিকপথে চালিত করাই মূল লক্ষ্য। যার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটা ‘দেবতামূল্য’ পেয়েছেন মফস্বল সাংবাদিকরা। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের সাংবাদিকতার এই ভূমিকায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। ফলে মফস্বলের বিশুদ্ধ সাংবাদিকতা মোকাবিলার জন্যই নানা প্রলোভনে প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক বলয় তৈরির চেষ্টা চালান ক্ষমতাসীনরা। ফলে ঢাকার বাইরের আর কোনো মোনাজাতউদ্দিন যেন জন্ম নিতে না পারে সে চেষ্টা সফল হয়।

তবে নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যে এখনও মফস্বলে অনেক স্মার্ট, মেধাবী সাংবাদিক নিরলসভাবে কাজ করছেন। এমনকি, মফস্বল সাংবাদিক বা প্রতিনিধিদের বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজধানীর শতশত পত্রিকা টিকে থাকছে। শুধু তাই নয়, দশকের পর দশক ধরে প্রভাবশালী গণমাধ্যমের ভূমিকাও পালন করছে। তবে কতিপয় অপেশাদার সম্পাদক বা বার্তাপ্রধানের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।প্রখ্যাত দু-একজন সম্পাদকের অনৈতিক প্রস্তাবের কাছেও হার মেনেছেন মফস্বলের অনেক সাংবাদিক। এর ওপর সংবাদমাধ্যমের ডিজিটালাইজেশনের মহামারিতে কে সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নয়, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

২.
মফস্বল সাংবাদিকতা নিয়ে ৭ ডিসেম্বর দৈনিক ‘আমার দেশ’ ও ৯ ডিসেম্বর বিডিনিউজে দুটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম খবরের শিরোনাম “এক উপজেলায় ৮ প্রেসক্লাব, ‘সাংবাদিক’ ৩০০-র অধিক”। সাবহেডে লেখা, “চাঁদাবাজির হাতিয়ার প্রেস কার্ড”। ইন্ট্রোতে লেখা, ‘বেশিরভাগ সাংবাদিকই পেশাকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত প্রভাব, চাঁদাবাজি, হুমকি আর দাপট দেখানোর ঢাল হিসেবে।’ বর্ষীয়ান এক সাংবাদিকের ভাষ্য, ২০–৩০ বছর সম্মান নিয়ে কাজ করেছেন। এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না।

দ্বিতীয় খবরের শিরোনাম, “বরগুনার ৯০ ভাগ সাংবাদিক ‘চাঁদাবাজ’, বললেন খাদ্য কর্মকর্তা”। বরগুনা সদরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল হক ক্যামেরার সামনেই বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ, একদম স্পষ্ট বললাম। আমার কাছে যতজন আসছে, নাইনটি পারসেন্ট চাঁদাবাজ, ক্যামেরার সামনে বলে দিলাম। যান, ওকে। ” আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, “আমার কাছে যতজন আসছে, এর মধ্যে একজনকে দড়ি দিয়েও বাঁধছি। পালাই গেছে।”

দুটো খবরের কমন শব্দ হচ্ছে, ‘চাঁদাবাজি’। প্রথম খবরে সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভাজন বা সিন্ডিকেটও যে বাড়ছে সেটা স্পষ্ট। দ্বিতীয় খবরে ৯০ ভাগ সাংবাদিকই যে চাঁদাবাজ- সেটা দাবি করা হচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, তারা এত সাংবাদিক জীবনেও দেখেননি। যারা আবদার পূরণ না করলে সিরিজ নিউজ করছেন। অনেকে সরাসরি টাকা চান। না দিলে ফেসবুক-ইউটিউবে ভুয়া প্রচারণা চালান। খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় হকার, মুদি দোকানদার, তরকারিওয়ালা, রাজমিস্ত্রি, ড্রাইভার, ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, এমনকি মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দালালেরা টাকার বিনিময়ে ‘প্রেস কার্ড’ নিচ্ছেন। যা চাঁদাবাজির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

খবর দুটো খুবই উদ্বেগজনক। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঘটনাগুলো শুধু শ্যামনগর বা বরগুনা সদরের বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যাপার নয়, বরং গোটার দেশের সাধারণ চিত্র। প্রশ্ন হচ্ছে, ঢাকার বাইরের মোনাজাতউদ্দিনের উত্তরসূরিরা কীভাবে নষ্ট হচ্ছে, কেন হচ্ছে- তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। সাংবাদিকতায় সারা দেশে লক্ষাধিক কর্মী রয়েছেন। ঢাকায় রয়েছে হাজার হাজার কর্মী। যাদের হাত ধরে দেশে গণতন্ত্রের দিগন্ত খুলতে পারে। সেটা বুঝতে হবে রাজনৈতিক দল, সরকার, গণমাধ্যমের বিনিয়োগকারীদের। দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে, সংবাদমাধ্যমকে দল বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই।