০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাগমারায় সীমাহীন দুর্ভোগের নাম মন্দিয়াল কাচাঁ রাস্তা, প্রসূতি মায়েদের আহাজারি

এস,এম জাহাঙ্গীর বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি,
  • Update Time : ১০:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৫৬২ Time View

 

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ৪ নং বড়বিহানলী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মন্দিয়াল এর হিন্দুপাড়া হইতে গ্রামের শেষের মসজিদ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা যেন জনদুর্ভোগের আরেক নাম,সকাল হলে যেখানে পুড়ো বাগমারায় মানুষ সুন্দর পাঁকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে,
সেখানে এই গ্রামের চিত্র ভিন্ন, কাঁদার সাথে যুদ্ধ করে কৃষকরা ফসল নিয়ে যাই বিভিন্ন হাটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুড়ো অংশই কাদা-গর্তে জলাদ্ধতায় একাকার হয়ে আছে। এসব মাড়িয়েই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান ও মালবাহী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

এলাকাবাসী পক্ষে জিল্লুর রহমান মারুফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে এই সড়কটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বেড়ে যায় যাতায়াতের কষ্ট। বর্ষাকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে মন্দিয়াল গ্রামের বাসিন্দা মোছা. শারমিন বিবি সময়ের আলোকে বলেন, আমি সাত মাসে অন্তসত্বা, ডাঃ দেখাতে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে রেগুলার চেকআপ এর জন্য যাইতে পারি না শুধু এই কাদাঁর রাস্তার কারণে, আর শুধু আমি না আমার মত আরো অনেক মহিলারা বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে কিন্তু একটু বৃষ্টিতে এত কাদা জমে যায় যে কারণে কোন গাড়ি চলাচল করে না, আর আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মাদ্রাসা ছাত্র রাকিব সে শারীরিকভাবে অক্ষম এই বর্ষায় প্রচুর কাঁদা হওয়ার কারণে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনভাবে যেতে পারেনা, তার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন আমাদের পাকা রাস্তা না থাকায় আমি আমার ছেলেকে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেখে আসি আবার নিয়ে আসি,এভাবে আমরা দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ছে, এবিষয়ে আমরা প্রচুর কষ্টে আছি এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন খুব তাড়াতাড়ি রাস্তাটি পাকা করন
করা হয়।

এ বিষয়ে বড়বিহানালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন সময়ের আলোকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট দিয়ে এত দীর্ঘ রাস্তা পাকা করন সম্ভব নয়, আমি বারবার গত ১৫ বছর এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েছি তারা আশ্বাস দিলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি আমি চেয়ারম্যান হিসেবে যতটুকু পেরেছি গ্রামবাসীর পক্ষে করেছি,এখনো চেষ্টা করেছি এবং আজকেও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই রাস্তার পাকা করনের আবেদন করিয়েছি।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে জেনেছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, আশা করি এই ২৫-২৬ অর্থবছরে এ রাস্তাটি পাকা করনের কাজ শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাগমারায় সীমাহীন দুর্ভোগের নাম মন্দিয়াল কাচাঁ রাস্তা, প্রসূতি মায়েদের আহাজারি

Update Time : ১০:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

 

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ৪ নং বড়বিহানলী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মন্দিয়াল এর হিন্দুপাড়া হইতে গ্রামের শেষের মসজিদ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা যেন জনদুর্ভোগের আরেক নাম,সকাল হলে যেখানে পুড়ো বাগমারায় মানুষ সুন্দর পাঁকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে,
সেখানে এই গ্রামের চিত্র ভিন্ন, কাঁদার সাথে যুদ্ধ করে কৃষকরা ফসল নিয়ে যাই বিভিন্ন হাটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পুড়ো অংশই কাদা-গর্তে জলাদ্ধতায় একাকার হয়ে আছে। এসব মাড়িয়েই মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, রিকশা, ভ্যান ও মালবাহী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।

এলাকাবাসী পক্ষে জিল্লুর রহমান মারুফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে এই সড়কটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বেড়ে যায় যাতায়াতের কষ্ট। বর্ষাকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে মন্দিয়াল গ্রামের বাসিন্দা মোছা. শারমিন বিবি সময়ের আলোকে বলেন, আমি সাত মাসে অন্তসত্বা, ডাঃ দেখাতে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে রেগুলার চেকআপ এর জন্য যাইতে পারি না শুধু এই কাদাঁর রাস্তার কারণে, আর শুধু আমি না আমার মত আরো অনেক মহিলারা বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে কিন্তু একটু বৃষ্টিতে এত কাদা জমে যায় যে কারণে কোন গাড়ি চলাচল করে না, আর আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মাদ্রাসা ছাত্র রাকিব সে শারীরিকভাবে অক্ষম এই বর্ষায় প্রচুর কাঁদা হওয়ার কারণে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনভাবে যেতে পারেনা, তার বাবা মোজাম্মেল হক বলেন আমাদের পাকা রাস্তা না থাকায় আমি আমার ছেলেকে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেখে আসি আবার নিয়ে আসি,এভাবে আমরা দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ছে, এবিষয়ে আমরা প্রচুর কষ্টে আছি এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন খুব তাড়াতাড়ি রাস্তাটি পাকা করন
করা হয়।

এ বিষয়ে বড়বিহানালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মিলন সময়ের আলোকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট দিয়ে এত দীর্ঘ রাস্তা পাকা করন সম্ভব নয়, আমি বারবার গত ১৫ বছর এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েছি তারা আশ্বাস দিলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি আমি চেয়ারম্যান হিসেবে যতটুকু পেরেছি গ্রামবাসীর পক্ষে করেছি,এখনো চেষ্টা করেছি এবং আজকেও উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই রাস্তার পাকা করনের আবেদন করিয়েছি।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমি এ বিষয়ে জেনেছি এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, আশা করি এই ২৫-২৬ অর্থবছরে এ রাস্তাটি পাকা করনের কাজ শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।