বগুড়ার নন্দীগ্রামে সরকারি খাস জায়গা থেকে লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো.রজিব আলী উপজেলার তুলাশন গ্রামের চাঁন আলীর ছেলে এবং তিনি রেজিস্ট্রি অফিসের একজন মহুরি।
উপজেলা ভূমি অফিসের প্রাথমিক তদন্তে এই অভিযোগের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা এড়াতে অভিযুক্ত রজিব আলী বগুড়া আদালতে একটি আবেদন করেছে। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় এবং পুনরায় তদন্তের আবেদন করায় বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ১নং বুড়ইল ইউনিয়নের তুলাশন এলাকায় ভদ্র নদী সংলগ্ন ১৬০৯ দাগের সরকারি জমি থেকে প্রায় ৫০-৬০টি ইউক্যালেপ্টাস ও বাটুল গাছ কেটে বিক্রি করেন রজিব আলী। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় গ্রামবাসী ও জিয়াউর রহমান নামে এক ব্যক্তি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি সার্ভেয়ার মো.জাহিদ ইসলাম সরেজমিনে তদন্ত ও সরকারিভাবে পরিমাপ পরিচালনা করেন। তদন্ত শেষে তিনি জানান,জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত এবং সেখান থেকে গাছ কাটার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে ভূমি অফিসের তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা এড়াতে অভিযুক্ত রজিব আলী বগুড়া আদালতে একটি আবেদন করেন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে ১৬০৯ দাগের গাছ কাটা নিয়ে অভিযোগ, সেই দাগের তদন্ত না চেয়ে তিনি পাশের ১১৫৬ দাগের জমি পুনরায় মাপজোকের জন্য আদালত থেকে কমিশন নিয়োগের আবেদন করেছেন।
এদিকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার (তহসিলদার) বিরুদ্ধে ও অভিযুক্ত রজিব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অভিযোগকারী ও গ্রামবাসীরা ১২ই এপ্রিল বগুড়ার শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত রজিব আলী গাছ বিক্রির বিষয়টি শিকার না করলেও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন,পূর্বের তদন্ত সঠিক হয়নি বলেই আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের পুনঃতদন্তে আমি দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।
এই বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)রোহান সরকার বলেন: অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় এবং পুনরায় তদন্তের আবেদন করায় বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়াটি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আদালতের মাধ্যমে পুনরায় কমিশন গঠন করে তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।