প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:২৬ এ.এম
বগুড়ায় মা-ছেলের কৌশলী প্রতারণা: ৯০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও

বগুড়ার গাবতলীতে সরকারি চাকরি ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে।
উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের চকডঙর গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা গত ২৩ এপ্রিল গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চকডঙর গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী দীর্ঘ দিন ধরে কুয়েতে কর্মরত। প্রবাসে ভালো বেতনে চাকরি করার সুবাদে এলাকায় তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪৮) ও ছেলে মশিউর রহমান আরিফের (৩০) বেশ সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছল ইমেজ তৈরি হয়। এই বিশ্বাসকে পুঁজি করেই মা ও ছেলে সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জাল বোনেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,মরিয়ম ও আরিফ গত কয়েক মাসে অত্যন্ত গোপনে নিকট আত্মীয় এবং গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। তারা কৌশলে মূলত তিনটি উপায়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জাল বোনেন যেমন সরকারি চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড বা সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে। জরুরি প্রয়োজনে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেছে।
প্রতারণার শিকার হওয়া মরিয়ম বেগমের আপন ভাগ্নি মুন্নী আকতার জানান,খালাতো ভাই আরিফের সরকারি চাকরি হয়েছে এমন কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ৯ লাখ টাকা চাওয়া হয়। খালার অনুরোধে আমি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম।
প্রতারণার শিকার হওয়া মাহমুদা বেগম বলেন,আমার কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকা নিয়েছে অনেক কষ্টে টাকাটা ম্যানেজ করে দিছি ধার দেনা করে পাওনাদাররা প্রতিদিন এসে চাপ দিচ্ছে। এখন কি করবো উপায় পাচ্ছি না।
একইভাবে গ্রামের একাধিক মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে: যেমন মাহমুদা বেগম: ৯ লাখ টাকা। রঞ্জনা বেগম: ৭ লাখ টাকা। রুস্তম আলী: ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাজেদা বেগম: ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। মিতু বেগম: ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা সহ এভাবে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন ব্যক্তির কাছ থেকে ৯০ লাখ টাকার মতো হাতিয়ে নিয়ে গত কয়েকদিন আগে মা ও ছেলে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মরিয়ম বেগম ও মশিউর রহমান আরিফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের খুঁজে না পাওয়ায় কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পাওনাদাররা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ই-পেপার