বগুড়ার নন্দীগ্রামে পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্যালিকাকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে।
এই জঘন্য ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দুলাভাই মোঃ বাকী বিল্লাহকে (৪৮) দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে পুলিশ আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। গ্রেফতারকৃত বাকী বিল্লাহ উপজেলার ৫ নং ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বিজরুল গ্রামের আজিজ মাওলানার ছেলে তিনি গছাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নন্দীগ্রামের ভাটগ্রাম ইউনিয়নের গছাইল গ্রামে ভিকটিমের বাবার বাড়িতে আত্মীয়তার সুবাদে নিয়মিত যাতায়াত ছিল বাকী বিল্লাহর। গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে ভিকটিমের শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। ভিকটিম শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাকী বিল্লাহ। পরে এই পাশবিকতার বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে লোকলজ্জা আর চরম ভয়ে ওই তরুণী ঘটনাটি দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
ধর্ষণের ঘটনার কয়েক মাস পর ভিকটিমের শরীরে নানাবিধ শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হলে গত ৬ জুন তাকে বগুড়ার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হয়। পরীক্ষার রিপোর্টে চিকিৎসকেরা জানান, ওই প্রতিবন্ধী তরুণী ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত খবরে পরিবার স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভিকটিম তার পরিবারের কাছে দুলাভাইয়ের সেই পাশবিকতার কথা অকপটে স্বীকার করে। এরপরই ভিকটিমের পিতা মোঃ তোজাম্মেল হোসেন অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ঘটনার ভয়াবহতা ও ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার পিতা সরাসরি বিজ্ঞ আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে (২৫ জুন) এজাহার দায়ের করেন। আদালত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বুধবার (১ জুলাই) নন্দীগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই থানার একটি চৌকস দল দ্রুত অভিযানে নামে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলার বিজরুল বাজার এলাকা থেকে ধর্ষক বাকী বিল্লাহকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর সাথে এমন জঘন্য ও নীতিহীন অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বাকী বিল্লাহর দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ (মৃত্যুদণ্ড) শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,গ্রেফতারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।