এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রদলের খুদে কর্মী হিসেবে রাজনীতির মাঠে নামেন আলহাজ্ব মাওলানা মো. ফজলে রাব্বি তোহা। সেই সময় থেকে শুরু করে আজও তিনি রাজনীতির ময়দানে সক্রিয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে রয়েছেন দৃঢ়ভাবে, দলীয় আদর্শ ও তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে।
দলের কর্মীদের কাছে তিনি ত্যাগী ও নির্ভীক নেতা হিসেবে পরিচিত। সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি জনপ্রিয় — তাঁর সরলতা, নৈতিকতা ও জনগণের পাশে থাকা রাজনীতির জন্য। চলুন এবার দেখে নেওয়া যাক তার বিস্তারিত।
শিক্ষা থেকে রাজনীতিতে
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন ফজলে রাব্বি তোহা। তাঁর বাবা প্রতিষ্ঠিত নুন্দহ ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় তিনি উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু ২০১১ সালে রাজনৈতিক চাপে সেই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন। তবুও রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং আরও দৃঢ়ভাবে মাঠে নামেন দলের পক্ষে।
১/১১–এর সময়ের ভূমিকা
২০০৭ সালের ১/১১–এর সময় দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। জীবনঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। পরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রথম স্বরকলিপি প্রদানকারী ১২ জন নেতার একজন ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা
বিএনপি ও ওলামাদলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যুক্ত ফজলে রাব্বি তোহা দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—
সদস্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামাদল কেন্দ্রীয় কমিটি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কেন্দ্রীয় কমিটি,
সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বগুড়া জেলা বিএনপি,
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপি।
দমন–নিপীড়নের মুখেও অটল
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ফজলে রাব্বি তোহা দমন–নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছেন বহুবার। ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা হয়, পাঁচ–ছয়বার কারাগারে যান, প্রায় উনিশ মাস বন্দিজীবন কাটান। একাধিকবার রিমান্ডেও নেওয়া হয়। তবুও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।
সমাজসেবায় সক্রিয়তা
রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবায়ও সক্রিয় তিনি। এলাকার মসজিদ–মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ান নিয়মিত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছেও তিনি একজন ভদ্র, নিরহংকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত।
ধানের শীষেই জনগণের আশার প্রতীক বগুড়া–৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির রাজনীতিতে ফজলে রাব্বি তোহা এখন এক পরিচিত নাম। তিনি বলেন, ধানের শীষই পারে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে, দলের ভিত্তি তৃণমূল পর্যন্ত শক্ত করতে কাজ করছেন তিনি।
ত্যাগ, সাহস ও নৈতিকতার প্রতীক
দলীয় সহকর্মীরা বলেন, দমন–নিপীড়নের সময়ও ফজলে রাব্বি তোহা কখনো দলে বিভাজন সৃষ্টি করেননি। বরং কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন, সংগঠিত করেছেন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে অটল থেকে তিনি এখন ত্যাগ, সাহস ও নৈতিকতার প্রতীক।
দলের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ রেখেছেন জীবন ভর ,২০০৮সালে ও ২০১৮ সালে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও তিনি প্রার্থীর সাথে থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন,যখন অন্যান্য বঞ্চিতরা ঘরে বসেছিল।
ফজলে রাব্বি তোহা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ অতীতের মতোই থাকবে ইনশাআল্লাহ। মনোনয়ন যাকে দিবেন তার সাথে এক হয়ে সামনে দিনে পথ চলতে চাই।