সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল চুরি, বাসা-বাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স (ইউপি কর) ও স্যানিটেশন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রামের ইউপি সদস্য শামছুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ট্যাক্সের টাকা তুলে খরচ করেছি। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অবর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে ছিলাম। বাসা-বাড়ির ট্যাক্সের টাকা উত্তোলন করে ইসলামী জালসা, হরিবাসরসহ বিভিন্নভাবে খরচ করেছি। তবে টাকার পরিমাণ ৬ লাখ নয়, কিছুটা কম।
গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বিতর্কিত প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সদুত্তর দিতে পারেননি। দৈনিক যুগান্তর, ভোরের ডাক, ইনকিলাব, আজকের দর্পণ, দৈনিক পুনরুত্থানসহ বেশকয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে উল্টো নিজেই আংশিক দায় স্বীকার করে প্রেসক্লাব থেকে চলে যান।
চাল চুরি ঘটনার ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলেও চালের বস্তায় হাত দেইনি। আমি চাল চোর না, পরিষদ থেকে চাল সরাইনি। সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল জনগণ খায় না। এগুলো তারা বিক্রি করেছে, অনেকে কিনেছে। আমার ছোট ভাই পরিষদে এসে চালগুলো তুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। তালিকাভুক্ত কেউ চাল বঞ্চিত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য ১১৫ জন গ্রাহক প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছে। সেই টাকা গ্রহণ করেও সরকারি নিয়মে জমা হয়নি। জবাবে শামছুর রহমান দাবি করেন, আমার কাছে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র ফটোকপি জমা হয়েছে। টাকাগুলো মেম্বারদের কাছে থাকতে পারে। আমার কাছে সরকার বা জনগণের টাকা নেই।
এ প্রসঙ্গে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন নির্মাণ প্রকল্পের নিয়মে গ্রাহকরা ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। টাকা জমা দেওয়ার জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।