০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের ১২ কোটির নলকূপ প্রকল্পে তৎপর আরডিএ 

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৬:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৩৭ Time View
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে সমবায় ভিত্তিক খামার যান্ত্রিকীকরণ ও গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ  নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বিরুদ্ধে বগুড়ার চারটি উপজেলায় ১১ কোটি ৪১ লাখ টাকার সেই প্রকল্প কৌশলে বাস্তবায়নের অভিযোগ করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার মুরাদপুর-পোতা মৌজার আবাদি মাঠে নিয়মবহির্ভূত ও ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি)বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সময়কার গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের বিষয়টি প্রকাশ পায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নন্দীগ্রাম মুরাদপুর এলাকার নিবন্ধিত নলকূপের (সূর্যকান্ত) পরিচালক তাপস চন্দ্র সরকার।
সূত্র জানায়, সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবনা বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক ২০১৮ সালে প্রণীত কৃষি নীতিতে কৃষি সমবায় ব্যবস্থাপনার প্রকল্প অনুমোদন করে শেখ হাসিনার সরকার। সমবায়-ভিত্তিক খামার যান্ত্রিকীকরণ ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতে আরডিএ বগুড়া এবং বিএডিসির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ২৩ জুলাই প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আরডিএ বগুড়া, চারটি উপজেলা- শাজাহানপুর, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ পরিকল্পনা শাখা-৬ সহকারী সচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির পরই তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুরাদপুর এলাকার তাপস চন্দ্র অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সময়কার প্রকল্প ব্যাপক অনিয়ম ও কৌশলে বাস্তবায়নে তৎপর আরডিএ। সরকারের ভর্তুকির মোটাঅংকের টাকা আত্মসাত করতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে স্থাপনার কার্যক্রম শুরু করে। আপন দাদু মৃত সূর্যকান্ত সরকারের নামে মুরাদপুর-পোতা মৌজায় নিবন্ধিত গভীর নলকূপসহ একই স্কীমে আরও দুটি গভীর নলকূপ রয়েছে। বর্তমানে পুকুর, বাগান ও বসতবাড়ি হওয়ায় আবাদি জমি কমে ৮০/৯০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। এরমাঝে নতুন করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন চেষ্টা চালাচ্ছে আরডিএ বগুড়া। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। উপজেলা প্রশাসন, বিএডিসি সেচ প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তাপস চন্দ্র সরকার।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি উপ-পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, ২০২৩ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। সমবায় সমিতি, জমি ব্যবস্থাসহ নানা কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আমি এখানে যোগদান করার পর পুনরায় কাজটি শুরু করেছি। শেরপুর উপজেলার চৌ-বাড়িয়া, শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া, বগুড়া সদর উপজেলার নুরুইল, এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার পৌতা এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই, সমবায় সমিতির মাধ্যমে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আ.লীগের ১২ কোটির নলকূপ প্রকল্পে তৎপর আরডিএ 

Update Time : ০৬:০৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে সমবায় ভিত্তিক খামার যান্ত্রিকীকরণ ও গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ  নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) বিরুদ্ধে বগুড়ার চারটি উপজেলায় ১১ কোটি ৪১ লাখ টাকার সেই প্রকল্প কৌশলে বাস্তবায়নের অভিযোগ করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপজেলার মুরাদপুর-পোতা মৌজার আবাদি মাঠে নিয়মবহির্ভূত ও ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে সহযোগিতা চেয়েছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি)বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সময়কার গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের বিষয়টি প্রকাশ পায়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নন্দীগ্রাম মুরাদপুর এলাকার নিবন্ধিত নলকূপের (সূর্যকান্ত) পরিচালক তাপস চন্দ্র সরকার।
সূত্র জানায়, সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে পল্লী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাবনা বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক ২০১৮ সালে প্রণীত কৃষি নীতিতে কৃষি সমবায় ব্যবস্থাপনার প্রকল্প অনুমোদন করে শেখ হাসিনার সরকার। সমবায়-ভিত্তিক খামার যান্ত্রিকীকরণ ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিতে আরডিএ বগুড়া এবং বিএডিসির মাধ্যমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় ধরা হয় ১১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ২৩ জুলাই প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আরডিএ বগুড়া, চারটি উপজেলা- শাজাহানপুর, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ পরিকল্পনা শাখা-৬ সহকারী সচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠির পরই তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুরাদপুর এলাকার তাপস চন্দ্র অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সময়কার প্রকল্প ব্যাপক অনিয়ম ও কৌশলে বাস্তবায়নে তৎপর আরডিএ। সরকারের ভর্তুকির মোটাঅংকের টাকা আত্মসাত করতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে স্থাপনার কার্যক্রম শুরু করে। আপন দাদু মৃত সূর্যকান্ত সরকারের নামে মুরাদপুর-পোতা মৌজায় নিবন্ধিত গভীর নলকূপসহ একই স্কীমে আরও দুটি গভীর নলকূপ রয়েছে। বর্তমানে পুকুর, বাগান ও বসতবাড়ি হওয়ায় আবাদি জমি কমে ৮০/৯০ বিঘায় দাঁড়িয়েছে। এরমাঝে নতুন করে নিয়মবহির্ভূত ভাবে আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন চেষ্টা চালাচ্ছে আরডিএ বগুড়া। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। উপজেলা প্রশাসন, বিএডিসি সেচ প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তাপস চন্দ্র সরকার।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি উপ-পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, ২০২৩ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। সমবায় সমিতি, জমি ব্যবস্থাসহ নানা কারণে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আমি এখানে যোগদান করার পর পুনরায় কাজটি শুরু করেছি। শেরপুর উপজেলার চৌ-বাড়িয়া, শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া, বগুড়া সদর উপজেলার নুরুইল, এবং নন্দীগ্রাম উপজেলার পৌতা এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই, সমবায় সমিতির মাধ্যমে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।