সংবাদপত্রের নবজাগরণ ঘটছে?
- Update Time : ০৭:১৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ৩৬১ Time View

হঠাৎ করেই দেশে সংবাদপত্র প্রকাশের নতুন জোয়ার শুরু হয়েছে। বিগ বাজেটের বেশ কিছু পত্রিকাও আসছে বাজারে। নির্বাচন ও নির্বাচনপরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই উদ্যোক্তারা মিডিয়ায় নতুন বিনিয়োগ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের বেশ কিছু উদ্যমী নীতিনির্ধারক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এসব পত্রিকার হাল ধরছেন।যারা পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির আলোকে পাঠকের জন্য নতুন বার্তা নিয়ে হাজির হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, ৫ আগস্টের পর থেকে সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে বহুমাত্রিক চাপ সামলে পাঠকের সার্বিক আস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে, সেখানে নতুন পত্রিকা কী বার্তা নিয়ে আসছে?পাঠক হিসেবে তারা কাদের টার্গেট করছে, কীভাবে করছে, টেকসই কৌশলই বা কী- তা নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে। এমনিতেই বছর কয়েক আগে বাজারে আসা বিগ বাজেটের পত্রিকাগুলোতে চলছে মন্দাভাব। নতুন প্রজন্মের পাঠকদের টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমন এক বৈরী পরিবেশে নতুন মিডিয়ার অভিযাত্রা কি রাজনীতিমুখী না ব্যবসামুখী, তা গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্য, এক্ষেত্রে বড় আশার বাণী শোনাচ্ছেন রাজনীতি ও গণযোগাযোগবিষয়ক বিশ্বখ্যাত তাত্ত্বিক ও গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের মেভিল স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও গবেষক হেলাল মহিউদ্দীন সম্প্রতি বেনেট ও লিভিংস্টোনের ‘দ্য ডিসইনফরমেশন অর্ডার’সহ কয়েকটি গবেষণামূলক বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিপত্যের যুগে এসে সংবাদপত্রের নবযুগের নব-উত্থান ঘটছে। শুরু হয়েছে রেনেসাঁ কাল। ”
আধুনিক গবেষণামতে, আগের মতামত বা রাজনৈতিক অবকাঠামোর সংবাদমাধ্যম এখন বদলে গেছে জ্ঞান অবকাঠামোয়। আগের মতো ক্ষমতার অংশ না হয়ে কাজ করছে ‘কাউন্টার আর্কাইভ’ হিসেবে। সোজা কথায়, পত্রিকাগুলো আগে যে বয়ান উৎপাদন করতো, এখন সে কেড়ে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যে মাধ্যমের মিথ্যা ও অপতথ্য ব্যবসা এখন ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে।
ফলে ফ্যাক্ট চেকিং-এর অনিবার্য এই যুগে মূলধারার গণমাধ্যমই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ভরসার জায়গা। বিশ্বের বহু দেশ এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, বাংলাদেশে নতুন প্রজন্মের কাছে আস্থা হারানো মূলধারার সংবাদমাধ্যম সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুতে পারছে না। বাধ্য হয়ে নীতিনির্ধারকরা ঝুঁকে পড়ছেন মাল্টিমিডিয়া তথা ডিজিটালের রেভিনিউয়ের দিকে।
আরেকটা প্রশ্ন থেকে যায়, ‘সংকটেই সম্ভাবনা’র পথ ধরে সংবাদপত্রের নবযুগের নব-উত্থানের সঙ্গী হতে দেশের বড় উদ্যোক্তারা যে হারে বিনিয়োগ শুরু করেছেন, তা কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাকি সম্ভাবনাময় বুদ্ধিবৃত্তিক পত্রিকা ব্যবসার প্রসার ঘটাতে?তবে এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের রেনেসাঁ বাস্তবায়নে মেধাবী ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা কতটা টেকসই ‘পথনকশা’ তৈরি করতে পারবেন?যা হাজার হাজার মেধাবী তরুণ সংবাদকর্মীর জন্য অপার সুযোগ বয়ে আনবে?














