০৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চোখ হারিয়েও রুবেল ছাড়েননি যুবদল, দেশ ছাড়েন মনজু

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৪:০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ৪৭১ Time View
​বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে বগুড়ার যুবদল নেতা আব্দুর রউফ রুবেল ছিলেন এক পরিচিত মুখ। বারবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি যুবদল ছাড়েননি। এর চরম মূল্য হিসেবে একটি সহিংস হামলায় তিনি তার ডান চোখ হারান।
​রুবেল বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তার নামে প্রায় ১৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর চারটি মামলা থেকে তিনি রেহাই পান।
​রুবেল জানান, ঢাকায় বিএনপির একটি সমাবেশে পুলিশ ও যুবলীগের হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। হামলায় তার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাকে মৃত ভেবে একটি ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কোনোমতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বাস কাউন্টার থেকে তাকে তুলে নেয় যুবলীগের কর্মীরা। একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে মারধরের পর টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
​শুধু তাই নয়, তার ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। নন্দীগ্রাম শহরে তার বাড়িতে দুই দফায় হামলা হয়। বাসস্ট্যান্ডে তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে তুলে নিয়ে থানার মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে রাতভর নির্যাতন করে পুলিশ।
​বর্তমানে রুবেল নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এত নির্যাতন সহ্য করেও তিনি তার দল ছেড়ে যাননি। বছরের পর বছর তিনি ঘরছাড়া ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ পর্যন্ত কাটাতে পারেননি।
​নির্যাতনের মুখে দেশ ছাড়েন মনজু
​রুবেলের মতো একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরেক যুবদল নেতা মনজুরুল ইসলাম মনজু। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ১৭টি গায়েবি মামলা দেওয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন তার জমির বেগুন গাছ পর্যন্ত কেটে ফেলে চাষাবাদ নষ্ট করে দেয়।
​একাধিকবার কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি টিকতে না পেরে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দেশে ফেরেন। ইতোমধ্যে ১৪টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
​পা ভেঙেও আন্দোলন থেকে সরেননি নুরনবী
​রুবেল ও মনজুর মতো একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরএইচ নুরনবী। পা ভেঙে গেলেও দুইটি মামলা মাথায় নিয়ে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। ভাঙা পায়ে ভর দিয়ে তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাবন্দি হন। ২০২৩ সালে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

চোখ হারিয়েও রুবেল ছাড়েননি যুবদল, দেশ ছাড়েন মনজু

Update Time : ০৪:০২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
​বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে বগুড়ার যুবদল নেতা আব্দুর রউফ রুবেল ছিলেন এক পরিচিত মুখ। বারবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি যুবদল ছাড়েননি। এর চরম মূল্য হিসেবে একটি সহিংস হামলায় তিনি তার ডান চোখ হারান।
​রুবেল বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তার নামে প্রায় ১৭টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর চারটি মামলা থেকে তিনি রেহাই পান।
​রুবেল জানান, ঢাকায় বিএনপির একটি সমাবেশে পুলিশ ও যুবলীগের হামলায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। হামলায় তার ডান চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর তাকে মৃত ভেবে একটি ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কোনোমতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে বাস কাউন্টার থেকে তাকে তুলে নেয় যুবলীগের কর্মীরা। একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে মারধরের পর টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
​শুধু তাই নয়, তার ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে। নন্দীগ্রাম শহরে তার বাড়িতে দুই দফায় হামলা হয়। বাসস্ট্যান্ডে তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে তুলে নিয়ে থানার মধ্যে ঝুলিয়ে রেখে রাতভর নির্যাতন করে পুলিশ।
​বর্তমানে রুবেল নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এত নির্যাতন সহ্য করেও তিনি তার দল ছেড়ে যাননি। বছরের পর বছর তিনি ঘরছাড়া ছিলেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ পর্যন্ত কাটাতে পারেননি।
​নির্যাতনের মুখে দেশ ছাড়েন মনজু
​রুবেলের মতো একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরেক যুবদল নেতা মনজুরুল ইসলাম মনজু। তিনি শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং খরনা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ১৭টি গায়েবি মামলা দেওয়া হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন তার জমির বেগুন গাছ পর্যন্ত কেটে ফেলে চাষাবাদ নষ্ট করে দেয়।
​একাধিকবার কারাবন্দি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি টিকতে না পেরে ২০২৪ সালে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দেশে ফেরেন। ইতোমধ্যে ১৪টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
​পা ভেঙেও আন্দোলন থেকে সরেননি নুরনবী
​রুবেল ও মনজুর মতো একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন নন্দীগ্রাম পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরএইচ নুরনবী। পা ভেঙে গেলেও দুইটি মামলা মাথায় নিয়ে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। ভাঙা পায়ে ভর দিয়ে তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে এলাকায় ফিরেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাবন্দি হন। ২০২৩ সালে তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।